Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news
০৮ অক্টোবর ২০২৬
০৪:৩৯ অপরাহ্ন

বিশ্বজুড়ে তীব্র হচ্ছে এল নিনো, সতর্কবার্তা জাতিসংঘের

অনলাইন ডেস্ক El Nino is intensifying worldwide

বিশ্বজুড়ে তীব্র হচ্ছে এল নিনো আবহাওয়াগত অবস্থা। এর ফলে বৈশ্বিক আবহাওয়ার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্কবার্থা দিয়েছে জাতিসংঘের বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থা ডব্লিউএমও।


বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ডব্লিউএমও জানিয়েছে, ডিসেম্বরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আগে এল নিনোর আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস বলছে, এবারের এল নিনো ১৯৫০ সালের পর নথিভুক্ত সবচেয়ে শক্তিশালী ঘটনাগুলোর একটি হতে পারে।


উল্লেখ্য, এল নিনো হলো মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার স্বাভাবিক ধরনে পরিবর্তন ঘটে।


বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এ দিন প্রকাশিত ডব্লিউএমওর মাসিক ‘গ্লোবাল সিজনাল ক্লাইমেট আপডেট’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের অক্টোবর, নভেম্বর, ডিসেম্বরে মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় রেকর্ড মাত্রায় বাড়তে পারে।


জাতিসংঘের এই অঙ্গসংস্থা আরও জানিয়েছে, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে। এটি পর্যবেক্ষণ শুরুর পর সর্বোচ্চ মাত্রা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো বলেছেন, এল নিনো এরইমধ্যে শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং দ্রুত তীব্র হচ্ছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ।


সাধারণত দুই থেকে সাত বছর পরপর এল নিনো দেখা দেয় এবং একবার দেখা দিলে ৯ থেকে ১২ মাস স্থায়ী হতে পারে। এর বিপরীত পর্যায়কে বলা হয় লা নিনা।


ডব্লিউএমও জানিয়েছে, এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে গিয়ে কোথাও দীর্ঘস্থায়ী খরা,আবার কোথাও অতিবৃষ্টির কারণে বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। কৃষি, বাস্তুতন্ত্র, অর্থনীতি এবং বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার ওপরও এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।


এল নিনো পৃথিবীতে নতুন করে তাপ তৈরি করে না। বরং প্রশান্ত মহাসাগরে সঞ্চিত তাপ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়াকে তীব্র করে। বর্তমানে সমুদ্রের তাপমাত্রা ইতিমধ্যে রেকর্ড পর্যায়ে থাকায় এবার নির্গত হওয়ার মতো তাপের পরিমাণও বেশি।


মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা এরইমধ্যেই বেড়েছে। এর সঙ্গে শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাব যুক্ত হলে বিভিন্ন অঞ্চলে চরম তাপমাত্রার পরিস্থিতি আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


সূত্র : এএফপি, এনডিটিভি

© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news