Template: 3
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
অনলাইন ডেস্ক | ১৬ অক্টোবর ২০২৬
bijoybangla.news
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক

এক কলেজে তিন অধ্যক্ষ, তিন সভাপতি

নিজস্ব প্রতিনিধি, বগুড়া: Three principals, three presidents in one college

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার দুর্গাহাটা ডিগ্রি কলেজে অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সভাপতির পদ নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। 

অধ্যক্ষের দায়িত্বে তিনজনের নাম এবং সভাপতি পদে একাধিক ব্যক্তির দাবির মধ্যে নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়ায় জটিলতা বেড়েছে।

আদালতের আদেশ ও কমিটির বৈধতা নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবিতে কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


কলেজ সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন মোজাফফর হোসেন। তাঁর পদত্যাগের পর ময়নুল আহসান দায়িত্ব নেন বলে জানা যায়। পরে তাঁর অনুপস্থিতিতে জিয়াউল ইসলাম জুয়েলকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে বর্তমানে কে বৈধভাবে দায়িত্ব পালন করছেন, তা নিয়ে স্পষ্টতা নেই। ময়নুল আহসান নিজেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দাবি করে জানান, কমিটি নিয়ে জটিলতার কারণে প্রায় ছয় মাস ধরে তিনি কলেজে যাচ্ছেন না।


সভাপতির পদ নিয়েও রয়েছে বিরোধ। সাখাওয়াত হোসেন লিটনকে সরিয়ে প্রথমে আকিল আহম্মেদ মমিনকে সভাপতি করা হয় বলে কলেজ সূত্রে জানা গেছে। পরে সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টনের ডিও লেটারের মাধ্যমে রবিউল আলম অশ্রুকে সভাপতি এবং আকিল আহম্মেদ মমিনকে বিদ্যুৎসাহী সদস্য করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। অন্যদিকে, শাহজালাল মানিকও নিজেকে সভাপতি দাবি করছেন। তাঁর ভাষ্য, সংসদ সদস্য তাঁকেও ডিও লেটার দিয়েছেন।


গত ৯ অক্টোবর স্থানীয় একটি দৈনিকে কলেজের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। তবে বিজ্ঞপ্তিটি কার উদ্যোগে এবং কোন কমিটির অনুমোদনে প্রকাশ করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আকিল আহম্মেদ মমিনের দাবি, কলেজের একাধিক কমিটি নিজেদের বৈধ বলে দাবি করছে এবং শাহজালাল মানিকের নেতৃত্বাধীন কমিটির নিয়োগ কার্যক্রমে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ রয়েছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোরও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।


এ বিষয়ে শাহজালাল মানিকের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অনুমতি ছাড়া কলেজে সাংবাদিক প্রবেশের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। পরে সরাসরি কথা বলবেন জানিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।


কলেজের জমিদাতা মো. আশরাফ আলী বলেন, কমিটি নিয়ে বিরোধে কলেজের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষকদের অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হচ্ছে। শিক্ষক মো. কামাল উদ্দিনও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বারবার কমিটি পরিবর্তন ও আদালতে রিটের ঘটনায় শিক্ষার পরিবেশ ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেক শিক্ষার্থী এখানে স্বল্প খরচে পড়াশোনা করে।


বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, নিয়োগ কার্যক্রম নিয়ে বিরোধের কারণে কলেজে অচলাবস্থা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। প্রকৃত অবস্থা জানতে গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।


জেলা প্রশাসক আরও বলেন, এডহক কমিটির মূল দায়িত্ব দাপ্তরিক কার্যক্রম সচল রাখা, নির্বাচন সম্পন্ন করা এবং নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা। এ ধরনের কমিটির নিয়োগ দেওয়ার আইনগত সুযোগ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। কলেজের সভাপতি ও কমিটি নির্ধারণের এখতিয়ার শিক্ষা বোর্ডের। অচলাবস্থার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news