আজ বিজয়া দশমী। কয়েক দিনের আনন্দ, উৎসব ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে রাজশাহীতে সমাপ্ত হলো শারদীয় দুর্গোৎসব। সকাল থেকে নগরী ও জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে পূজা-অর্চনা, প্রার্থনা, সিঁদুর খেলা এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে পালিত হয় দুর্গাপূজার অন্তিম দিন। বিসর্জনের প্রস্তুতি ও আনুষ্ঠানিকতাকে কেন্দ্র করে ভক্তদের মাঝে তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ। উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর মুহূর্তে মণ্ডপে মণ্ডপে ছড়িয়ে পড়ে বিষাদের সুর।
বুধবার বিজয়া দশমীর সকালে রাজশাহী মহানগর ও জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভক্তদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। শেষবারের মতো দেবী দুর্গার দর্শন লাভ, পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন এবং পরিবারের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেন ভক্তরা। পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তাঁরা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর যে উৎসবের সূচনা হয়েছিল, তার সমাপনী দিনে অনেকের মনেই ছিল আগামী বছর আবারও দুর্গোৎসবে মিলিত হওয়ার প্রত্যাশা।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রচলিত রীতি অনুসারে বিজয়া দশমী দেবী দুর্গার বিদায়ের দিন। কয়েক দিন ধরে চলা ধর্মীয় আয়োজনের দশমীর আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে এর পরিসমাপ্তি ঘটে। সকালে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হয় দেবী দুর্গার দশমী বিহিত পূজা। পুরোহিতদের মন্ত্রোচ্চারণ, প্রার্থনা এবং ধর্মীয় আচার পালনের পর দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় শেষ দিনের কার্যক্রম।
ছবি - বিজয় বাংলা
দশমীর অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিবাহিত নারীদের অংশগ্রহণে ঐতিহ্যবাহী সিঁদুর খেলা। মণ্ডপে নারীরা দেবী দুর্গার কপালে সিঁদুর পরানোর পাশাপাশি একে অপরের কপাল ও মুখে সিঁদুর মাখিয়ে শুভকামনা বিনিময় করেন। লাল সিঁদুরের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে পূজামণ্ডপের আঙিনা। আনন্দঘন এই আয়োজনের মধ্যেও দেবীর বিদায়ের ক্ষণে অনেক ভক্ত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে রাজশাহী মহানগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছিল। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপ ও মন্দির প্রাঙ্গণ সাজানো হয়েছিল বর্ণিল আলোকসজ্জা ও নান্দনিক তোরণে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ মণ্ডপে এসে দেবী দর্শন করেন। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে রাজশাহীর সামাজিক পরিবেশেও তৈরি হয় মিলনমেলার আবহ।
দুপুরের পর থেকে রাজশাহীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি। ট্রাক, ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহনে প্রতিমা তুলে নির্ধারিত বিসর্জনস্থলের উদ্দেশে শোভাযাত্রা সহকারে রওনা হন ভক্তরা। ঢাকের শব্দ, শঙ্খধ্বনি এবং প্রার্থনার মধ্য দিয়ে পদ্মার তীরসহ নির্ধারিত বিসর্জনস্থলগুলোতে প্রতিমা বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও পূজা উদযাপন পরিষদের সমন্বয়ে শোভাযাত্রা ও বিসর্জনস্থলগুলোতে নেওয়া হয়েছিল কঠোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা।
এবারের দুর্গোৎসবে রাজশাহী মহানগর ও জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় ছিল। পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ জানান, বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ রাজশাহীর সম্প্রীতির পরিবেশকে আরও সুদৃঢ় করেছে। বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিক পর্ব শেষ হলেও ভক্তদের মনে থেকে গেছে আগামী শরতে আবারও দেবীর আগমনের প্রত্যাশা।