Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news
২২ অক্টোবর ২০২৬
০৩:২৫ অপরাহ্ন

মানবতার টানে অসহায় মানুষের পাশে নারী ও শিশু কল্যাণ সংস্থা, ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সুমি মুর্মুর

জেসিকা শেখ, জেলা প্রতিনিধি Sumi Murmu

মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য—এই চিরন্তন সত্যকে হৃদয়ে ধারণ করে অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে নারী ও শিশু কল্যাণ সংস্থা। সমাজের অবহেলিত ও অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে বস্ত্র বিতরণ কার্যক্রমের মাধ্যমে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপনের চেষ্টা করছেন সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা সুমি মুর্মু


পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ রয়েছেন, যাঁদের প্রতিদিনের জীবন কাটে অভাব-অনটন আর নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে। দুবেলা খাবার জোগাড় করাই যেখানে কঠিন, সেখানে নিজের কিংবা পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় পোশাক কেনা তাঁদের কাছে অনেক সময় বিলাসিতার মতো। সমাজের এমন অসহায় মানুষের কষ্ট উপলব্ধি করে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে নারী ও শিশু কল্যাণ সংস্থা।


প্রতিবছরের মতো এ বছরও সংস্থাটির পক্ষ থেকে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে বস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পথে-ঘাটে, রাস্তার পাশে কিংবা সমাজের আড়ালে পড়ে থাকা অবহেলিত মানুষদের খুঁজে তাঁদের প্রয়োজনের সময়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। সংস্থাটির এই কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও সহমর্মিতার অনন্য দৃষ্টান্ত।



এই উদ্যোগের মূল ভাবনা কেবল কিছু মানুষের হাতে পোশাক তুলে দেওয়া নয়; বরং যাঁরা প্রতিনিয়ত জীবনসংগ্রামের মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদেরও সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে সম্মান ও মর্যাদা দেওয়ার বার্তা পৌঁছে দেওয়া। কারণ, মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার সম্পদ কিংবা অবস্থানে নয়, বরং অন্য মানুষের দুঃখ-কষ্টে পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতায়।

নারী ও শিশু কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সুমি মুরমুর উদ্যোগে পরিচালিত এই মানবিক কার্যক্রম সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সমাজে পরিবর্তন আনতে সব সময় বড় কোনো আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। কখনো একটি পোশাক, একমুঠো খাবার কিংবা আন্তরিকতার সঙ্গে বাড়িয়ে দেওয়া সহযোগিতার হাতও একজন মানুষের জীবনে আশার আলো হয়ে উঠতে পারে।


মানবিকতার এই পথচলায় সমাজের প্রত্যেক মানুষের অংশগ্রহণ জরুরি। কারণ, অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানো শুধু কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের দায়িত্ব নয়; এটি আমাদের সবার সামাজিক ও মানবিক দায়বদ্ধতা। সম্মিলিত প্রচেষ্টা, ভালোবাসা ও সহমর্মিতার মাধ্যমে গড়ে উঠতে পারে এমন একটি সমাজ, যেখানে অভাবের কারণে কেউ অবহেলিত হবেন না এবং অসহায় মানুষও অনুভব করবেন—এই পৃথিবীতে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর মতো মানুষ রয়েছেন।

নারী ও শিশু কল্যাণ সংস্থা ভবিষ্যতেও মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে অসহায় মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যেতে চায়। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা সুমি মুরমুর এই উদ্যোগ মানবসেবার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সমাজে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এমনটাই প্রত্যাশা।

মানুষ মানুষের জন্য—এই বিশ্বাসকে শক্তি করে মানবতার সেবায় এগিয়ে চলুক নারী ও শিশু কল্যাণ সংস্থার পথচলা। অসহায় মানুষের মুখের একটুখানি হাসিই হোক সব মানবিক উদ্যোগের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news