Template: 3
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
অনলাইন ডেস্ক | ২২ অক্টোবর ২০২৬
bijoybangla.news
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কারাবন্দী বিএনপি নেতা রেন্টুর পরিবারের পাশে রাসিক প্রশাসক রিটন

আবুল কালাম আজাদ ,রাজশাহী:- Md. Mahfuzur Rahman Riton

কারাবন্দী বিএনপি নেতা মাহাবুর রশিদ রেন্টুর মুক্তির আকুতি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির সামনে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর দুই কন্যা। তাদের সেই আকুতির পর পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিবারটিকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। 

একই সঙ্গে পরিবারের একজনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং কারাবন্দী নেতার আইনি বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।


মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে বাবার মুক্তির আবেদন জানাতে তাঁর গাড়ির সামনে দাঁড়ায় রেন্টুর দুই কন্যা। এ ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কারাবন্দী বিএনপি নেতার পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনকে নির্দেশনা দেন।


বুধবার (২১ অক্টোবর) নগর ভবনে রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মাহাবুর রশিদ রেন্টুর স্ত্রী সৈয়দা দিলরুবা আফরোজ এবং দুই কন্যা জারিন তাসনিম রাহি ও সাদিয়া তাহমিন মাহি। এ সময় প্রশাসক তাঁদের আর্থিক সহায়তা দেন এবং পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দেন।


রাজু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড:-

মাহাবুর রশিদ রেন্টুকে ঘিরে অতীতের সংবাদপ্রতিবেদনে গুরুতর একটি ফৌজদারি মামলার তথ্য পাওয়া যায়। ২০২১ সালের ১২ অক্টোবর রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ২০১০ সালে কলেজছাত্র রাজু আহমেদ হত্যা মামলায় মাহাবুর রশিদ ওরফে রেন্টুসহ পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়। মামলার অপর নয় আসামিকে খালাস দেন আদালত। 


মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বাগমারা উপজেলার মাদারীগঞ্জ বাজারে রাজু আহমেদের পরিবারের একটি স্বর্ণের দোকান ছিল। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ওই পরিবারের সঙ্গে মাহাবুর রশিদ রেন্টুর বিরোধ তৈরি হয়। ২০১০ সালের ১৫ মার্চ রাজশাহী নগরের নিউমার্কেট এলাকায় রাজু আহমেদকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। তিনি তখন দুর্গাপুরের দাওকান্দি ডিগ্রি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিলেন। পরদিন তাঁর বাবা এসার উদ্দিন বাদী হয়ে বোয়ালিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন।


২০২১ সালে রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায়ের পর তাঁদের রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর কথা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী তখন উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছিলেন। তবে রেন্টুর বর্তমান কারাবাসের স্থান এবং আপিলের সর্বশেষ নিষ্পত্তি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।


পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস:-

রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্যার আমাকে কারাবন্দী বিএনপি নেতার পরিবারের পাশে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে আমি অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছি। পরিবারের একজনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করে দেব। কারাবন্দী নেতার কারাগারে আইনগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং আইনি বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।”

রেন্টুর মেয়ে জারিন তাসনিম রাহি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে সিটি প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের সঙ্গে দেখা করতে বলেছেন এবং তাঁকে আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন। প্রশাসক মহোদয় বাবার মুক্তি পাওয়া পর্যন্ত তাঁকে যতটা সম্ভব ভালো রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। ইতোমধ্যে তিনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন এবং আমাদের পাশে থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন বলেও কথা দিয়েছেন।”

পরিবারটির জন্য এই উদ্যোগে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও আইনি সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। তবে মৃত্যুদণ্ডের রায়, আপিলের অগ্রগতি এবং বর্তমান কারাবাসের অবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট আদালত ও কারা কর্তৃপক্ষের হালনাগাদ তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। পরিবারের প্রত্যাশা, আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তারা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাবেন।




© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news