Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news
২৩ অক্টোবর ২০২৬
০৩:২৬ অপরাহ্ন

ধেয়ে আসছে টাইফুন চাম্পি: বিপর্যয়ের শঙ্কায় তাইওয়ান

অনলাইন ডেস্ক বাতিল হাজারের বেশি ফ্লাইট, স্কুল-অফিস বন্ধ Typhoon Champi is approaching

প্রবল শক্তিশালী টাইফুন চাম্পির প্রভাবে বিপর্যয়ের আশঙ্কায় তাইওয়ানে স্কুল-অফিস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় এক হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বহু মানুষকে। অন্যদিকে ব্যাপক বৃষ্টিপাতসহ একই দুর্যোগের আশঙ্কার মধ্যে জাপানেও বাতিল করা হয়েছে ১৬০টির বেশি ফ্লাইট।


সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, শক্তিশালী টাইফুন চাম্পির প্রভাবে তাইওয়ানে ব্যাপক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দ্বীপটির ২২টি কাউন্টি ও শহরের মধ্যে প্রায় সব জায়গায় স্কুল-কলেজ ও অফিসের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে তাইওয়ানের মূল ভূখণ্ডের পশ্চিমে অবস্থিত দ্বীপপুঞ্জ কিনমেন কাউন্টিতে স্বাভাবিক নিয়মেই অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলবে।


বাতিল করা হয়েছে প্রায় এক হাজার অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, টাইফুনের আশঙ্কায় শুক্রবার তাইওয়ানের ২৬২টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট এবং ৬৬০টির বেশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ। রেল ও ফেরি চলাচলও বন্ধ রাখা হয়েছে। শক্তিশালী ঝড়ের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে কিছু মহাসড়কও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।


এছাড়া ঝড়ের প্রভাবে ইতোমধ্যেই একজনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন অন্তত ৯৪ জন। নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে এক হাজারের বেশি মানুষকে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শেয়ারবাজার তাইওয়ান স্টক এক্সচেঞ্জও শুক্রবার বন্ধ রয়েছে।


বিবিসি বলছে, দ্বীপটিতে ইতোমধ্যেই ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। রাজধানী তাইপের কয়েকটি এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।


তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামীকাল শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা পর্যন্ত টাইফুন চাম্পির প্রভাবে দ্বীপটিতে ঝোড়ো আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।


এদিকে দ্বীপটির উত্তরাঞ্চলে প্রবল বাতাস বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাতাসের ঝাপটার গতিবেগ বিউফোর্ট স্কেলে ১২ মাত্রায় পৌঁছাতে পারে, যা এই স্কেলের সর্বোচ্চ মাত্রা। এ পরিস্থিতিতে উপকূল ও পাহাড়ি এলাকা থেকে দূরে থাকতে জনগণকে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।


অন্যদিকে টাইফুন চাম্পির প্রভাবে জাপানের চারটি বিমান সংস্থার ১৬০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।


জাপানের বিমান সংস্থা অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ (এএনএ) জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় ওকিনাওয়া প্রিফেকচারের মিয়াকো ও ইশিগাকি বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া এবং সেখানে অবতরণের সব ফ্লাইট শুক্রবারের জন্য বাতিল করা হয়েছে।


এছাড়া ওখোৎস্ক মনবেতসু, ওকিনাওয়া নাহা, তসুশিমা, মিয়াজাকি ও কাগোশিমা বিমানবন্দরেও ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। জাপান এয়ারলাইনস জানিয়েছে, তাইপে সংশান বিমানবন্দর ও তাইওয়ান তাওইউয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাতায়াতকারী ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।


বিবিসি বলছে, গত কয়েক দিন আগে টাইফুন চাম্পি আনুষ্ঠানিকভাবে চলতি বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়ে পরিণত হয়েছিল। গত মঙ্গলবার বিকেলে ফিলিপাইন সাগরের ওপর দিয়ে অগ্রসর হওয়ার সময় ঝড়টির স্থায়ী বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৮৫ মাইল বা ২৯৮ কিলোমিটারে পৌঁছায়। এই গতিবেগ ক্যাটাগরি ৫ মাত্রার হারিকেনের সমতুল্য।


মূলত স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ মাইল বা ২৪০ কিলোমিটারে পৌঁছালে কোনো ঘূর্ণিঝড়কে ‘সুপার টাইফুন’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। শুরুতে চাম্পিকেও সুপার টাইফুন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।


তবে বুধবার সাগরের ওপর দিয়ে অগ্রসর হওয়ার সময় ঝড়টি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এখনো এর শক্তি যথেষ্ট বেশি। তাইওয়ানের আবহাওয়া কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুরের দিকে ঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৫৫ কিলোমিটার বা ৯৬ মাইল।


এদিকে তাইওয়ানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার তাইওয়ানের মূল দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ছোট প্রবালদ্বীপ লিউচিউতে ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে গিয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে।


ভূখণ্ডটির ফায়ার সার্ভিস বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, টাইফুনের প্রভাবে আহত হয়েছেন ৯৪ জন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের অনেকেই সড়ক দুর্ঘটনা ও পড়ে যাওয়ার কারণে আঘাত পেয়েছেন। সরকার জানিয়েছে, বাড়িঘর থেকে এক হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।


অবশ্য টাইফুন চাম্পির কেন্দ্র বা চোখ সরাসরি স্থলভাগে আঘাত হানবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে শনিবার পর্যন্ত ঝড়টির প্রভাবে সর্বোচ্চ ৯০ সেন্টিমিটার বা ৩৫ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। শনিবার ঝড়টির সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


বিবিসি বলছে, তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব উপকূল ঘেঁষে অগ্রসর হওয়ার পর চাম্পি জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওকিনাওয়া দ্বীপপুঞ্জের কাছ দিয়ে যাবে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। এরপর এটি চীনের পূর্ব উপকূলের কাছ দিয়ে অগ্রসর হয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে মোড় নিয়ে জাপানের মূল ভূখণ্ডের দিকে যেতে পারে।


এ পরিস্থিতিতে উপকূল ও পাহাড়ের মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলতে জনগণকে জরুরি সতর্কবার্তা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। চীনের আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ টাইফুন চাম্পির জন্য ‘ব্লু’ সতর্কতা জারি করেছে। দেশটির চার স্তরের সতর্কতা ব্যবস্থায় এটি সর্বনিম্ন স্তর।


অন্যদিকে টাইফুনের প্রভাবে জাপানের ওকিনাওয়া অঞ্চলে ৮ হাজার ৪০০ মানুষ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছেন বলে জানিয়েছে ওকিনাওয়া ইলেকট্রিক পাওয়ার।

© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news