
ভারত-পাকিস্তান সংঘাতসহ আটটি যুদ্ধ থামাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এসব সংঘাত নিরসনে নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে আবারও নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি। তার দাবি, বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা ও উচ্চ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে ভারত ও পাকিস্তানকে সংঘাত থেকে সরে আসতে বাধ্য করেছিলেন তিনি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ফ্লোরিডায় এক নির্বাচনি প্রচার সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে আয়োজিত ওই সমাবেশে তিনি দাবি করেন, পারমাণবিক অস্ত্রধারী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত বড় আকার ধারণ করার আগেই তা থামাতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখিয়েছিলেন তিনি। এমনকি উভয় দেশের ওপর সর্বোচ্চ ২৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছিলেন। তার দাবি, এই চাপের মুখেই দুই পক্ষ গুলি চালানো বন্ধ করে এবং সংঘাতের অবসান ঘটে।
নিজের তথাকথিত কূটনৈতিক সাফল্যের প্রসঙ্গ টেনে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার বিষয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘আমি কি নোবেল পুরস্কার পেয়েছি? না।’
গত বছর পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সশস্ত্র সংঘাত তিনি থামিয়েছিলেন বলে ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন। তবে এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান ভিন্ন। নয়াদিল্লি বরাবরই দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকরে কোনো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতার দাবি নাকচ করে এসেছে।
ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘অপারেশন সিন্দুর’ চলাকালে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করার জন্য পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনস (ডিজিএমও) তার ভারতীয় সমকক্ষকে অনুরোধ করার পরই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল।
গত বছরের ৭ মে ভারত ‘অপারেশন সিন্দুর’ শুরু করে। এই অভিযানে পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে অবস্থিত সন্ত্রাসী অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায় ভারতীয় বাহিনী।
ভারতের দাবি, অভিযানে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানা হয়েছিল। পরে ১০ মে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে অনুরোধ পাওয়ার পর সামরিক অভিযান স্থগিত করা হয়।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে