Template: 2
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news
২৫ অক্টোবর ২০২৬
০৮:১২ অপরাহ্ন

পছন্দের মানুষ মিলছে না

অনলাইন ডেস্ক Can't find the person you want

চারপাশে কত মানুষ প্রেম করছেন, সম্পর্কে জড়াচ্ছেন, কেউ কেউ গড়ে তুলছেন দীর্ঘদিনের সংসারও। অথচ কারও জীবনে যেন প্রেম এসেও আসে না।

পছন্দের মানুষ খুঁজে পাওয়া যায় না, কাউকে ভালো লাগলেও সম্পর্ক এগোয় না। আবার কারও জীবনে একবার সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর নতুন করে কাউকে বিশ্বাস করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই নিজের চেহারা, যোগ্যতা কিংবা ভাগ্যকে দায়ী করেন। কিন্তু প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হওয়া নির্ভর করে শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য বা ভাগ্যের ওপর নয়।

ব্যক্তিত্ব, শৈশবের অভিজ্ঞতা, আত্মবিশ্বাস, সামাজিক পরিবেশ এবং আবেগ প্রকাশের ধরনও এতে ভূমিকা রাখতে পারে।

অবশ্য একা থাকার অর্থ এই নয় যে, কারও মধ্যে কোনো সমস্যা আছে।

কেউ নিজের ইচ্ছায় সম্পর্কে জড়ান না, কেউ উপযুক্ত মানুষের অপেক্ষায় থাকেন। আবার কারও ক্ষেত্রে পারিবারিক ও সামাজিক বাধা, নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগের অভাব কিংবা অতীতের অভিজ্ঞতা সম্পর্ক গড়ে তোলার পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে।

তবু আপনি যদি সম্পর্ক চান, অথচ বারবার একই জায়গায় আটকে যান, তাহলে নিজের কিছু অভ্যাস ও প্রত্যাশার দিকে তাকিয়ে দেখতে পারেন।

শৈশবের অভিজ্ঞতা প্রভাব ফেলতে পারে সম্পর্কে


মানুষ ছোটবেলায় পরিবারে যেভাবে ভালোবাসা, নিরাপত্তা ও যত্ন পায়, তার প্রভাব পরবর্তী জীবনের সম্পর্কেও পড়তে পারে। মনোবিজ্ঞানী জন বোলবি ও মেরি এইনসওর্থের সঙ্গে সম্পর্কিত অ্যাটাচমেন্ট তত্ত্বে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই অভিজ্ঞতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।


শৈশবে যারা আবেগগত নিরাপত্তার অভাব অনুভব করেছেন, তাদের কেউ কেউ বড় হয়ে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয়ে সঙ্গীকে অতিরিক্ত আঁকড়ে ধরতে পারেন। আবার কেউ ঘনিষ্ঠতা তৈরি হলেই অস্বস্তি বোধ করেন এবং নিজেকে গুটিয়ে নেন। ফলে সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য রাখা কঠিন হতে পারে। শৈশবের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের সম্পর্কের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয় না। নিজের আচরণের ধরন বুঝতে পারলে এবং প্রয়োজন হলে পেশাদার সহায়তা নিলে স্বাস্থ্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলার দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব।


আত্মসম্মান আর অহংকারকে গুলিয়ে ফেলা


সম্পর্কের ক্ষেত্রে আত্মসম্মান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আত্মসম্মান বজায় রাখা আর নিজেকে সব সময় অন্যের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভাবা এক বিষয় নয়।


যারা নিজের মূল্য সম্পর্কে অনিশ্চিত, তারা সঙ্গীর সামান্য অবহেলাকেও প্রত্যাখ্যান হিসেবে দেখতে পারেন। আবার যারা নিজের মতামতকেই সব সময় সঠিক মনে করেন, তারা সঙ্গীর চাহিদা ও অনুভূতিকে গুরুত্ব দিতে ব্যর্থ হতে পারেন।


স্বাস্থ্যকর সম্পর্কের জন্য প্রয়োজন নিজের প্রতি শ্রদ্ধা রাখার পাশাপাশি অন্য মানুষটির মর্যাদা ও সীমারেখাকেও সম্মান করা। মতের অমিল হলেই কাউকে ছোট করা কিংবা নিজের চাহিদা পূরণ না হলে সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়া আত্মসম্মানের পরিচয় নয়।


মনের কথা বলতেই ভয়


প্রেমের সম্পর্কে জড়ানো মানে শুধু ভালো লাগার অনুভূতি উপভোগ করা নয়; এর সঙ্গে নিজের দুর্বলতা, ভয়, অনিশ্চয়তা ও প্রত্যাশা ভাগ করে নেওয়ার বিষয়টিও জড়িত। কিন্তু অতীতে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার অভিজ্ঞতা থাকলে কেউ কেউ নতুন করে ভালো লাগার কথা প্রকাশ করতে ভয় পান। মনে হতে পারে, মনের কথা বললে অপর পক্ষ তাকে প্রত্যাখ্যান করবেন, দুর্বল ভাববেন কিংবা পরে সেই অনুভূতিকে ব্যবহার করবেন।


গবেষক ও লেখক ব্রেনে ব্রাউন মানুষের দুর্বলতা প্রকাশ এবং আবেগগত ঝুঁকি নেওয়ার গুরুত্ব নিয়ে কাজ করেছেন। তার আলোচনার মূল ভাবনা হলো, গভীর সংযোগ তৈরিতে নিজের প্রকৃত অনুভূতি প্রকাশ করার সাহস প্রয়োজন।


তবে এর অর্থ এই নয় যে, প্রথম পরিচয়েই সব ব্যক্তিগত কথা বলে দিতে হবে। বরং ধীরে ধীরে আস্থা তৈরি করা, পারস্পরিক সম্মতি বোঝা এবং উপযুক্ত সময়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করাই ভালো।


পরিবার ও সমাজের অলিখিত নিয়ম


আমাদের সমাজে প্রেম ও সম্পর্ক নিয়ে অনেক প্রচলিত ধারণা রয়েছে। বিয়ের আগে নারী-পুরুষের মেলামেশা, প্রেমের সম্পর্ক প্রকাশ করা কিংবা নিজের পছন্দে জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার মতো বিষয়েও পরিবার ও সমাজের প্রত্যাশা কারও কারও জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।


কেউ হয়তো পছন্দের মানুষের সঙ্গে কথা বলতে সংকোচ বোধ করেন। কেউ আবার পরিবারের অসম্মতির ভয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন না। ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সঙ্গে ব্যক্তিগত ইচ্ছার দ্বন্দ্বও সিদ্ধান্ত নেওয়াকে কঠিন করে তুলতে পারে।


সব সামাজিক রীতি যে অযৌক্তিক, তা নয়। তবে কোনো নিয়ম মেনে চলার কারণে নিজের পছন্দ, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে কি না, তা ভেবে দেখা জরুরি। সম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত মূল্যবোধের পাশাপাশি পারস্পরিক সম্মতি ও স্বাধীন সিদ্ধান্তের গুরুত্বও রয়েছে।


অতীতের সম্পর্কের ক্ষত কাটিয়ে উঠতে না পারা


একটি সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর নতুন কাউকে বিশ্বাস করতে সময় লাগতেই পারে। বিশেষ করে আগের সম্পর্কে প্রতারণা, অবহেলা, মানসিক নির্যাতন কিংবা অসম্মানের অভিজ্ঞতা থাকলে পরবর্তী সম্পর্কেও তার প্রভাব পড়তে পারে।


কেউ নতুন মানুষের মধ্যে পুরোনো সঙ্গীর আচরণ খুঁজতে থাকেন। কেউ সামান্য ভুল বোঝাবুঝিতেই ধরে নেন, এবারও একই পরিণতি হবে। আবার কেউ ভবিষ্যতে কষ্ট পাওয়ার আশঙ্কায় কাউকে কাছে আসতেই দেন না।


অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন, কিন্তু প্রত্যেক নতুন মানুষকে পুরোনো সম্পর্কের দায় বহন করানো ঠিক নয়। নিজের কষ্টকে সময় দেওয়া, অনুভূতি নিয়ে কথা বলা এবং প্রয়োজন হলে কাউন্সেলরের সাহায্য নেওয়া নতুন সম্পর্কের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে সহায়তা করতে পারে।


নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয়ের সুযোগ কম


কাউকে পছন্দ হওয়া বা উপযুক্ত সঙ্গী খুঁজে পাওয়ার জন্য নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগও প্রয়োজন। কিন্তু কাজ, পড়াশোনা ও পারিবারিক দায়িত্বের ব্যস্ততায় অনেকের সামাজিক পরিসর ছোট হয়ে যায়।


কেউ এমন পরিবেশে থাকেন, যেখানে নিজের আগ্রহ ও মূল্যবোধের সঙ্গে মেলে, এমন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ সীমিত। কেউ আবার নতুন মানুষের সঙ্গে কথা বলতে অস্বস্তি বোধ করেন। সামাজিক উদ্বেগও পরিচিত গণ্ডির বাইরে যেতে বাধা দিতে পারে।


অনলাইন ডেটিংয়ের ক্ষেত্রেও রয়েছে ভিন্ন অভিজ্ঞতা। অনেক বিকল্পের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে কেউ ক্লান্ত হয়ে পড়েন, আবার বারবার হতাশাজনক অভিজ্ঞতার কারণে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।


সমাধান হিসেবে নিজের পছন্দের কাজ, সাংস্কৃতিক আয়োজন, বই পড়ার দল, খেলাধুলা কিংবা স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন। এতে শুধু সঙ্গী খোঁজার সুযোগই বাড়বে না, নিজের সামাজিক জীবনও সমৃদ্ধ হবে। তবে পরিচয় থেকে সম্পর্ক গড়ে উঠতেই হবে, এমন প্রত্যাশা না রাখাই ভালো।


ব্যক্তিত্বের কারণে যোগাযোগে জটিলতা


সব মানুষ একইভাবে মিশতে স্বচ্ছন্দ নন। কেউ সহজেই নতুন মানুষের সঙ্গে কথা বলতে পারেন, কেউ সময় নিয়ে পরিচিত হন। কেউ নিজের অনুভূতি সরাসরি প্রকাশ করেন, আবার কেউ তা প্রকাশ করতে সংকোচ বোধ করেন।


এসব পার্থক্য থাকা মানেই কারও ব্যক্তিত্বে সমস্যা আছে, এমন নয়। অন্তর্মুখী মানুষও গভীর ও স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন। তবে নিজের স্বভাবের কারণে যদি নিয়মিত যোগাযোগ এড়িয়ে চলেন, অন্যের আগ্রহ বুঝতে না পারেন কিংবা প্রয়োজনীয় কথা বলতে না পারেন, তাহলে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া কঠিন হতে পারে।


নিজেকে অন্য কারও মতো করে বদলে ফেলার প্রয়োজন নেই। বরং নিজের স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রেখে যোগাযোগের দক্ষতা বাড়ানো, অন্যের কথা শোনা এবং নিজের আগ্রহ স্পষ্টভাবে প্রকাশ করার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে।


অনুভূতি বুঝতে ও প্রকাশ করতে অসুবিধা


সম্পর্কে শুধু ভালোবাসা থাকলেই হয় না; সেই ভালোবাসা প্রকাশ করা এবং সঙ্গীর অনুভূতি বোঝার দক্ষতাও প্রয়োজন। অনেক সময় দুজন মানুষ একে অন্যকে পছন্দ করলেও যোগাযোগের ঘাটতিতে সম্পর্ক এগোয় না।


একজন হয়তো কষ্ট পেলে চুপ করে থাকেন, অন্যজন ভাবেন সব ঠিক আছে। কেউ ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবে সময় কাটানোকে গুরুত্ব দেন, অন্যজন উপহার দেওয়াকেই বেশি গুরুত্ব দেন। প্রত্যাশার এই পার্থক্য নিয়ে আলোচনা না হলে ভুল বোঝাবুঝি বাড়তে পারে।


আবেগগত দক্ষতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নিজের অনুভূতি শনাক্ত করা, তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা এবং অন্যের অনুভূতির প্রতি সহানুভূতিশীল থাকা। মতের অমিল হলে দোষারোপ না করে সমস্যা নিয়ে কথা বলা এবং প্রয়োজন হলে ক্ষমা চাইতে পারাও সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।


আদর্শ সঙ্গীর কল্পনা বাস্তবের চেয়ে বড়


কেউ হয়তো এমন একজন সঙ্গী চান, যিনি দেখতে আকর্ষণীয়, প্রচুর অর্থসম্পদের মালিক, সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত, রোমান্টিক এবং সব সময় নিজের প্রত্যাশা অনুযায়ী আচরণ করবেন। এমন সব গুণ এক মানুষের মধ্যে একসঙ্গে খুঁজতে গিয়ে বাস্তবের উপযুক্ত মানুষকেও তাঁরা উপেক্ষা করতে পারেন।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাজানো ছবি ও ভিডিও এই প্রবণতা বাড়িয়ে দিতে পারে। অন্যের সম্পর্কের সুন্দর মুহূর্ত দেখে মনে হতে পারে, নিজের সম্পর্কেও সব সময় একই রকম রোমান্টিকতা থাকা উচিত।


কিন্তু বাস্তব সম্পর্কের মধ্যে মতের অমিল, ব্যস্ততা, ভুল এবং মানিয়ে নেওয়ার বিষয় থাকে। তাই সঙ্গী বেছে নেওয়ার সময় চেহারা, অর্থ কিংবা সামাজিক অবস্থানের পাশাপাশি সততা, শ্রদ্ধাবোধ, মূল্যবোধের সামঞ্জস্য, দায়িত্বশীলতা ও যোগাযোগের ক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।


অবশ্যই নিজের পছন্দ বা মানদণ্ড বাদ দিতে হবে, এমন নয়। বরং কোন বিষয়গুলো সম্পর্কের জন্য অপরিহার্য আর কোনগুলো কেবল পছন্দের তালিকায় রয়েছে, তা পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো।


একা থাকার কারণ বুঝুন, নিজেকে দোষী ভাববেন না


প্রেম না হওয়ার পেছনে সব সময় ব্যক্তিগত দুর্বলতা থাকে না। কখনো উপযুক্ত মানুষের সঙ্গে পরিচয়ই হয় না, কখনো সময় বা পরিস্থিতি অনুকূলে থাকে না। আবার কেউ হয়তো এখনো সম্পর্কের জন্য প্রস্তুত নন। এসবই স্বাভাবিক অভিজ্ঞতা।


আপনি যদি সম্পর্ক চান, অথচ বারবার একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন, তাহলে নিজের প্রত্যাশা, যোগাযোগের ধরন এবং সম্পর্কের আচরণগুলো নিয়ে ভাবতে পারেন। প্রয়োজন হলে মনোবিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের সহায়তা নিন।


প্রেম পাওয়ার জন্য নিজের ব্যক্তিত্ব মুছে ফেলা কিংবা অন্যের প্রত্যাশা পূরণ করতে গিয়ে নিজেকে বদলে ফেলা জরুরি নয়। বরং নিজের অনুভূতি বোঝা, অন্যকে সম্মান করা, নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করা এবং সম্পর্কের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা গড়ে তোলাই গুরুত্বপূর্ণ।


আগামী বসন্তে আপনার জীবনে কেউ আসবেন কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে নিজের জন্য স্বাস্থ্যকর সম্পর্কের পথ তৈরি করা আপনার হাতেই রয়েছে। আর মনে রাখবেন, একা থাকা কোনো ব্যর্থতা নয়, সম্পর্কের মধ্যে থাকাটাও জীবনের সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি নয়।

© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news