কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন রাজমিস্ত্রি হুমায়ন কবির। পথে চারা গাছ কেনার জন্য থেমেছিলেন হাটে। সেখান থেকেই দুই তরুণের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে হাটশাপিলা এলাকায় গিয়ে পড়েন বিপাকে। অভিযোগ, সেখানে আরও কয়েকজনকে নিয়ে তাঁকে মারধর করে ছিনিয়ে নেওয়া হয় মোটরসাইকেল ও নগদ টাকা। দাবি করা হয় আরও দুই লাখ টাকা। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের অভিযানে ছয় ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন দুজন।
গতকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের হাটশাপিলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ওই এলাকার মিঠনের ছেলে মো. সিয়াম (১৮) ও জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মো. রহিত (১৮)। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে তাঁদের আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী হুমায়ন কবির উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়নের পরমান্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি।
এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে পাহাড়পুরে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে চারা গাছ কেনার জন্য মথুরাপুরের জাবারীপুর হাটে যান হুমায়ন কবির। সেখানে সিয়াম ও রহিত বিভিন্ন অজুহাতে তাঁকে কৌশলে হাটশাপিলা এলাকায় নিয়ে যান। পরে তাঁদের আরও কয়েকজন সহযোগী সেখানে জড়ো হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে হুমায়ন কবিরকে রাস্তার পাশে নিয়ে মারধর করা হয়। তাঁর মোটরসাইকেল ও সঙ্গে থাকা ৯০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তাঁর কাছে আরও দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দেওয়ার কথা বলে কোনোভাবে সেখান থেকে বেরিয়ে বাজারে গিয়ে চিৎকার শুরু করেন তিনি। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে থানায় নিয়ে যান।
হুমায়ন কবির বলেন, পাহাড়পুর থেকে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলাম। চারা গাছ কেনার জন্য জাবারীপুর বাজারে গেলে সিয়াম ও রহিত আমার পিছু নেন। পরে বাজারের পাশে নিয়ে মারধর করে মোটরসাইকেল কেড়ে নেন। আমার কাছে আরও দুই লাখ টাকা দাবি করেন তাঁরা। আমাকে হাত-পায়ে অনেক মারধর করা হয়েছে। কোনোভাবে সেখান থেকে বের হয়ে আসি। তাঁরা সংখ্যায় ছয়-সাতজন ছিলেন।
বদলগাছী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, অভিযোগ পাওয়ার ছয় ঘণ্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এ ব্যপারে বদলগাছী থানা অফিসার ইনচার্জ হাবিবুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের সাথে সাথে পুলিশ তদন্ত করে। অপরাধীদের সনাক্ত করে মোটরসাইকেল সহ ২জন আসামীকে আটক করে। এ ব্যপারে থানায় একটি মামলা হয়েছে। কোর্টের মাধ্যমে আসামীদের জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।