
প্রবল বর্ষণ আর বৈরী আবহাওয়াকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দ্রোহের গান, কবিতা আর সুরের মূর্ছনায় রাজশাহীতে উদযাপিত হলো বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ৫৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। প্রগতিশীল সংস্কৃতির শক্তিতে বলীয়ান হয়ে একটি শোষণহীন ও বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের দৃপ্ত শপথে মুখর হয়ে উঠেছিল পদ্মাপাড়।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে নগরীর ঐতিহাসিক পদ্মাপাড় বড়কুঠি উন্মুক্ত মঞ্চে প্রতিকূল প্রকৃতির সঙ্গে মিতালি করে শুরু হয় বর্ষপূতির এই বর্ণাঢ্য আয়োজন। বিকেল ৫টায় মুষলধারে বৃষ্টির মাঝেই জাতীয় সংগীত ও সংগঠনের দলীয় সংগীতের সুরের সাথে জাতীয় এবং সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে উদ্বোধিত হয় দিনব্যাপী এই সাংস্কৃতিক উৎসব।
পরে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ায় প্রধান ভেন্যু থেকে কর্মসূচি স্থানান্তরিত হয় সংগঠনের নিজস্ব কার্যালয়ে। সেখানে গণসংগীতের সুর, কবিতার পংক্তিমালা, পথনাটক এবং আলোচনা সভার এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়, যা উপস্থিত সংস্কৃতিকর্মী ও সুধীজনদের মনে নতুন লড়াইয়ের খোরাক জোগায়।
উদীচী রাজশাহী জেলা সংসদের সভাপতি অধ্যক্ষ জুলফিকার আহমেদ গোলাপের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর রহমান সোনার সাবলীল সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা বক্তব্য রাখেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন—সহ-সভাপতি রতন ভট্টাচার্য, সংগঠন বিষয়ক সম্পাদক সেলিনা বানু, সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য আবু তালেব মোল্লাহ্, মাইনুর মুরশিদ মৃদু, শিউলি মার্ডি, প্রফুল্ল প্রামানিক, সদস্য মতিউর রহমান, শ্যামলী প্রামানিক, অনামিকা সিনহা এবং শুভাকাঙ্ক্ষী জাকির হোসেন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী প্রতিটি স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সংস্কৃতির ভূমিকা ছিল বারুদের মতো।
১৯৬৮ সালের ২৯ অক্টোবর যাত্রা শুরু করা উদীচী তার জন্মলগ্ন থেকেই সাম্প্রদায়িকতা, শোষণ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক হাতিয়ার হাতে তুলে নিয়েছে। আজকের এই দিনেও সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামকে আরও বেগবান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।