
চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার নেমে এসেছে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশে। গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে ১৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ। ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি হয়েছে ছাত্রীদের ক্ষেত্রে। পাশাপাশি বোর্ডের ৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবার কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। বিপরীতে শতভাগ পাসের হার অর্জন করেছে মাত্র ৯টি প্রতিষ্ঠান।
শনিবার(৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
পরে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. ইফফাত জেরীন সংবাদ সম্মেলনে বোর্ডের ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
বোর্ডের সাত বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০ সালে রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ছিল শতভাগ। ২০২১ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৯৭ দশমিক ২৯ শতাংশে। ২০২২ সালে পাসের হার ছিল ৮১ দশমিক ৬০ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ। ২০২৪ সালে কিছুটা বেড়ে ৮১ দশমিক ২৪ শতাংশ হলেও ২০২৫ সালে বড় পতন ঘটে। ওই বছর পাসের হার নেমে আসে ৫৯ দশমিক ৪০ শতাংশে। এবার তা আরও কমে দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশে।
অর্থাৎ মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৩৬ দশমিক ১৮ শতাংশ। আর ২০২০ সালের শতভাগ পাসের হারের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ৫৪ দশমিক ৯৪ শতাংশে। ধারাবাহিক এই অবনতি বোর্ডের সামগ্রিক শিক্ষার মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
এবারের ফলাফলে ছাত্রীদের তুলনায় ছাত্ররা অনেক এগিয়ে রয়েছেন। বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ছাত্রদের পাসের হার ৫০ দশমিক ০৩ শতাংশ। অন্যদিকে ছাত্রীদের পাসের হার মাত্র ৩৭ দশমিক ৯১ শতাংশ। দুই ক্ষেত্রে ব্যবধান ১২ দশমিক ১২ শতাংশ।
এছাড় প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই এবার উত্তীর্ণ হতে পারেননি। অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠানের পাসের হার শূন্য। অন্যদিকে শতভাগ পাসের কৃতিত্ব দেখাতে পেরেছে মাত্র ৯টি প্রতিষ্ঠান। ফলে একদিকে যেমন বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠান প্রত্যাশিত ফল অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে, অন্যদিকে ভালো ফল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও অত্যন্ত কম।
জাতীয় ফলাফলের তুলনায়ও পিছিয়ে রয়েছে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড। এবার সারা দেশে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। সেখানে রাজশাহী বোর্ডের পাসের হার ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ। জাতীয় গড়ের চেয়ে এ বোর্ডের পাসের হার ৭ দশমিক ০৬ শতাংশীয় পয়েন্ট কম।
টানা দুই বছর পাসের হার কমে যাওয়া, ছাত্রীদের ফলাফলে বড় ব্যবধান এবং ৩২টি প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাসের ঘটনা শিক্ষার মান, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও প্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে গভীর পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।
ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাইলে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. ইফফাত জেরীন বলেন, শিক্ষার্থীরা খাতায় যেমন লিখেছে, সেভাবেই নম্বর পেয়েছে। কাউকে বাড়তি নম্বর দেওয়া হয়নি। তাই সারা দেশে এবার ফলাফল অন্য বছরের তুলনায় খারাপ হয়েছে। তবে রাজশাহী বোর্ডে বেশি খারাপ কেন হলো, তা বিশ্লেষণ না করা পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না।