Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক | bijoybangla.news
QR
ই-পেপার / অনলাইন সংস্করণ
Saturday , ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ০৪:০৯ অপরাহ্ন

বদলগাছীতে প্যাশন ফ্রুট চাষে তরুণের বাজিমাত

প্রতিনিধি, বদলগাছী (নওগাঁ): ৩১ অক্টোবর ২০২৬

নওগাঁর বদলগাছীতে মাত্র ১৪ শতাংশ জমিতে প্যাশন ফ্রুট চাষ করে সাড়া ফেলেছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মো. মোরছালিন আহমেদ। গাছ রোপণের তিন মাসের মাথায় ফলন শুরু হওয়া বাগান থেকে বর্তমানে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ কেজি ফল সংগ্রহ করছেন তিনি। নতুন এই ফলের চাষ দেখতে ও পদ্ধতি জানতে বাগানে ভিড় করছেন স্থানীয় কৃষক ও উৎসুক মানুষ।


মোরছালিনের বাড়ি জয়পুরহাট সদর উপজেলায়। বদলগাছীর পাঁচঘড়িয়া এলাকায় তাঁর শ্বশুরবাড়ি। সেই সূত্রে চাচা শ্বশুরের কাছ থেকে ১৪ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে শুরু করেন প্যাশন ফ্রুট চাষ। ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ফলের চাষপদ্ধতি ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা দেখে আগ্রহী হন তিনি। পরে কক্সবাজার থেকে সংগ্রহ করেন ৬২টি উন্নত জাতের চারা।



উদ্যোক্তা মোরছালিন জানান, জমি তৈরি, মাচা নির্মাণ, চারা সংগ্রহ ও জৈব সারসহ বাগান তৈরিতে প্রথম দফায় তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। গাছ রোপণের তিন মাসের মাথায় ফুল ও ফল আসতে শুরু করে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ কেজি ফল সংগ্রহ করছেন তিনি। স্থানীয় বড় ফলের দোকান ও সুপারশপগুলোতে প্রতি কেজি প্যাশন ফ্রুট বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে।


সরেজমিনে দেখা যায়, মাচার ওপর সবুজ লতানো গাছে ঝুলছে থোকায় থোকায় প্যাশন ফ্রুট। কোনোটি কাঁচা সবুজ, কোনোটি পেকে বেগুনি বা হলুদ রং ধারণ করেছে। স্থানীয়ভাবে আনারকলি বা ট্যাং নামে পরিচিত এই ফলের স্বাদ টক-মিষ্টি। সরাসরি খাওয়ার পাশাপাশি জুস, জ্যামসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য তৈরিতেও ব্যবহৃত হয় ফলটি।



মোরছালিন বলেন, সঠিক সংরক্ষণব্যবস্থা ও নিয়মিত বাজার নিশ্চিত করা গেলে প্যাশন ফ্রুট চাষ স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা পেলে এ অঞ্চলে আরও বড় পরিসরে এই ফলের চাষ সম্প্রসারণ করা সম্ভব।


এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, আমরা ওই উদ্যোক্তাকে উদ্বুদ্ধ করতে এবং কারিগরিভাবে সর্বোচ্চ সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করব। ভবিষ্যতে সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা বা প্রণোদনা এলে তাঁকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহযোগিতা করা হবে।


মাত্র ১৪ শতাংশ জমিতে প্যাশন ফ্রুট চাষের এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে নতুন ফল চাষের আগ্রহ তৈরি করেছে।


১৪ শতাংশ জমিতে বাগান, প্রতিদিন মিলছে ৮-১০ কেজি ফল । ছবি - বিজয় বাংলা