Template: 3
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
অনলাইন ডেস্ক | ৩১ অক্টোবর ২০২৬
bijoybangla.news
logo
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক

রাজশাহী বোর্ডের ৩৯ কলেজে শতভাগ ফেল, ৯টি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ পাস

আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী :- 100% fail in 39 colleges of Rajshahi Board, 100% pass in 9 institutions

২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের ৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের পাসের হার শূন্য শতাংশ। এছাড়া মাত্র ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শতভাগ পাস করেছে।

গত বছরের তুলনায় এবার শূন্য পাসের কলেজের সংখ্যা বেড়েছে চারটি। একই সঙ্গে বোর্ডের সামগ্রিক পাসের হারেও দেখা দিয়েছে বড় ধরনের পতন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৩৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৬১ হাজার ৮৯৪ জন। পাসের হার ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪ হাজার ৫২০ জন শিক্ষার্থী। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে বোর্ডটিতে পাসের হার ছিল ৫৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। সে বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১০ হাজার ১৩৭ জন শিক্ষার্থী। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যাও কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে।



শতভাগ পাস করা ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো- বগুড়ার বাফ শাহীন কলেজ থেকে পাস করেছেন ৮০ জন, বগুড়ার মিলেনিয়াম স্কলাস্টিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পাস করেছেন ৭৬ জন ও জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৬ জন, জয়পুরহাট গার্লস ক্যাডেট কলেজ থেকে পাস করেছেন ৫২ জন ও জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৮ জন, পাবনা ক্যাডেট কলেজ থেকে পাস করেছেন ৪৮ জন ও জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৭ জন, রাজশাহী ক্যাডেট কলেজে পাস করেছেন ৪৬ জন ও জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৬ জন, পাবনার স্কয়ার হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পাস করেছেন ২৩ জন ও জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২২ জন, নাটোরের বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পাস করেছেন ১২ জন ও জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন, হরিরামপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পাস করেছেন একজন এবং সিরাজগঞ্জের হযরত শাহ কামাল কলেজ থেকে পাস করেছেন একজন।

শূন্য পাসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৬ সালে রাজশাহী বোর্ডে এমন কলেজের সংখ্যা ৩৯টি। ২০২৫ সালে ছিল ৩৫টি। ২০২৬ সালে রাজশাহী বোর্ডে শতভাগ পাস করেছে মাত্র ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৮টি। ২০২৪ সালে ৩৫টি এবং ২০২৩ সালে ৩৭টি কলেজের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছিল। ফলে একদিকে শূন্য পাসের কলেজের সংখ্যা বৃদ্ধি, অন্যদিকে শতভাগ পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমে যাওয়া দুই সূচকেই বোর্ডের ফলাফলে অবনতির চিত্র ফুটে উঠেছে।

শিক্ষাবিদ সহযোগী অধ্যাপক ফজলে রাব্বির মতে, শূন্য পাসের কলেজগুলো চিহ্নিত করে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল পর্যালোচনা করা জরুরি। কোন বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বেশি অকৃতকার্য হয়েছে, পাঠদানে ঘাটতি কোথায় এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণের অবস্থা কী এসব বিষয় খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে দুর্বল ফলাফল হচ্ছে, সেসব কলেজে শিক্ষক সংকট, পাঠদানের মান, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ ও একাডেমিক ব্যবস্থাপনা মূল্যায়ন করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

তবে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী বলেন, উত্তরপত্রের প্রকৃত মূল্যায়ন এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় কম মনোযোগী দায় করেছেন।

© বিজয় বাংলা নিউজ
bijoybangla.news