
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অসময়ে তরমুজ চাষ করে ভালো লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা। ২০০ শতক জমিতে এবার তরমুজ চাষে খরচ হয়েছে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা। প্রায় ১০ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন চাষিরা।
মাত্র ৬০ থেকে ৭০ দিনের আবাদে মিলছে ভালো ফলন। বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে প্রতি বিঘা জমি থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা লাভের আশা করছেন কৃষকেরা। এতে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে বাড়ছে অসময়ের তরমুজ চাষের আগ্রহ।
উপজেলার মাছিমেরতালুক এলাকার কৃষক সাহেদ হোসেন বলেন, ‘এবার আমি ২২ শতক জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। ফলনও ভালো হয়েছে। এরই মধ্যে আড়তে ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বিক্রি করেছি। আরও ২ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারবো বলে আশাবাদী।’
উপজেলার খৈয়াছরা গ্রামের কৃষক মুসলিম উদ্দিন মিয়া খান এক বিঘা জমিতে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা বিনিয়োগে মালচিং পদ্ধতিতে চার জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। যা এরই মধ্যে বাজারজাতের জন্য প্রস্তুত। বাজারদর ভালো থাকলে আড়াই লাখ টাকার বেশি লাভের প্রত্যাশা করছেন তিনি।
মুসলিম উদ্দিন জানান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে প্রথমবারের মতো অসময়ের তরমুজ চাষ শুরু করেন তিনি। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও নিজের অর্থায়নে ১৮ শতক জমিতে লিওনা, সুগার কিং, সূর্যডিম ও বিগবাইট জাতের তরমুজ আবাদ করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় আগামীতে চাষের পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে তার।
শুধু সাহেদ ও মুসলিম উদ্দিন নন, খৈয়াছরা ইউনিয়নের সাতজন কৃষক এবার প্রায় ২০০ শতক জমিতে লিওনা, সুগার কিং, সূর্যডিম ও বিগবাইট জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। মৌসুমের বাইরে উৎপাদিত হওয়ায় বাজারে এসব তরমুজের চাহিদাও ভালো। বর্তমানে জাতভেদে প্রতি কেজি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১১০ টাকায়। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা সরাসরি ক্ষেত থেকে তরমুজ কিনে নিচ্ছেন। আরও তরমুজ চাষ করেছেন মোজাম্মেল হক, আব্দুল কুদ্দুস, বিপ্লব সিংহ ও মোহাম্মদ ইউসুফ।
খৈয়াছরা ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘অসময়ের তরমুজ চাষে শুরুতে কৃষকদের আগ্রহ কম ছিল। প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। ভালো ফলন ও লাভের সম্ভাবনা দেখে এখন অন্য কৃষকেরাও এ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। আগামীতে চাষের পরিধি আরও বাড়তে পারে।’
মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে মিরসরাইয়ে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ হচ্ছে। প্রথমত দু’একজন চাষ করলেও তাদের দেখাদেখি এখন কয়েকজন কৃষক তরমুজ চাষে যুক্ত হয়েছেন। চট্টগ্রাম কৃষি অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এবার চারটি অসময়ের তরমুজ প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বিনামূল্যে বীজ ও কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে। এ চাষ সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতা অব্যাহত আছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে প্রায় ২০০ শতক জমিতে ২০ থেকে ২৫ মেট্রিক টন তরমুজ উৎপাদনের সম্ভাবনা আছে। মাত্র ৬০-৭০ দিনে ফসল ঘরে তুলে একই জমিতে অন্য ফসল চাষের সুযোগ থাকায় কৃষকদের কাছে লাভজনক হয়ে উঠছে অসময়ের তরমুজ চাষ।