Template: 1
Tpl 1 Tpl 2 Tpl 3
বিজয় বাংলা নিউজ
জাতীয় দৈনিক | bijoybangla.news
QR
ই-পেপার / অনলাইন সংস্করণ
Friday , ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | ০৬:১৬ অপরাহ্ন

বিচারাধীন জমি নিয়ে বিদ্যালয় অধ্যক্ষের হয়রানি ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী পরিবারের বোদায় সংবাদ সম্মেলন

কুয়েল ইসলাম সিহাত, পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ ০৬ নভেম্বর ২০২৬

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ঝিনুকনগর এলাকায় আদালতের বিচারাধীন জমি নিয়ে বোদা সরকারি পাইলট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে হয়রানি ও মিথ্যা অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে বোদা উপজেলার ঝিনুকনগর এলাকায় নিজ বাড়িতে ভুক্তভোগী ১০ পরিবারের আয়োজনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্য মো. মনজুরুল হক। তিনি দাবি করে বলেন, ১৯৬১ সালে ২৪৯ শতক জমি ক্রয় করে দীর্ঘ ৬৬ বছর ধরে

পরিবারসহ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন প্রয়াত আবু নুর মোহাম্মদ আব্দুল গফুরের পরিবারবর্গ। ভোগ-দখলকৃত জায়গায় প্রমাণক হিসেবে মূল দলিল খারিজ খাজনা/দাখিলা ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট হালনাগাদ নথি আমরা ইতোমধ্যে আদালতে জমাও দিয়েছি। আমাদের বাড়ির পাশেই বোদা সরকারি পাইলট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ অবস্থিত। কিন্তু ২০২৫ সালে বিদ্যালয়ের একটি নোটিশের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এসএ রেকর্ডের নকশায় কোনো কাগজপত্র ছাড়াই তাদের ক্রয়কৃত জমির একটি অংশ বিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত দেখানো হয়েছে। এই জালিয়াতির প্রতিকারে তারা আদালতে নকশা সংশোধনের মামলা দায়ের করেন এবং মামলা চলাকালীন ওই জমিতে নিষেধাজ্ঞার আবেদন জানান। আদালত এ বিষয়ে কোনো আদেশ বা ইনজাংকশন না দিলেও প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রুবেল নিষেধাজ্ঞার ভুয়া তথ্য দিয়ে পুলিশ ব্যবহার করে তাদের হয়রানি করছেন বলে ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করে। গত ৩ নভেম্বর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নামিয়ে মানববন্ধনে বাধ্য করেছে এবং সেখানে মনগড়া ও বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেন। যা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

সংবাদ সম্মেলনে মনজুরুল ইসলাম বলেন, জমি কেনার পর থেকেই বিদ্যালয় তাদের অবস্থানে এবং আমরা আমাদের নিজস্ব অবস্থানে ঘরবাড়ি তৈরি করে বসবাস করে আসছি। ২০২৫ সালে হঠাৎ জানতে পারি কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই এসএ রেকর্ডের নকশায় আমাদের জমি বিদ্যালয়ের অনুকূলে দেখানো হয়েছে। বিষয়টি জানার পর আমরা আইনি পদক্ষেপে যাই। ইতোমধ্যে আদালত কর্তৃক অ্যাডভোকেট কমিশন তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদনও জমা দিয়েছেন। বিষয়টি বর্তমানে সম্পূর্ণ বিচারাধীন।

তিনি আরও বলেন, আইন ও আদালতের প্রতি সম্মান না দেখিয়ে বোদা পাইলট সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে অপপ্রচার চালাচ্ছেন এবং অহেতুক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন। আদালত ইনজাংকশনের কোনো আদেশ না দিলেও তিনি ভুল তথ্য দিয়ে পুলিশ দ্বারা আমাদের হয়রানি করাচ্ছেন। আমরা অবিলম্বে এই অপপ্রচার বন্ধ, হয়রানি থেকে মুক্তি এবং ন্যায়বিচার কামনা করছি। সেইসঙ্গে সবাইকে আদালতের রায়ের প্রতি আস্থা রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে ১০টি পরিবারের সদস্যসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


বিচারাধীন জমি নিয়ে বিদ্যালয় অধ্যক্ষের হয়রানি ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী পরিবারের বোদায় সংবাদ সম্মেলন