রাজশাহীর বাজারে চলতি সপ্তাহেও সবজির দাম কম ও স্থিতিশীল রয়েছে। গত সপ্তাহের তুলনায় অধিকাংশ সবজির দামে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। তবে ডিম ও মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। এতে ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। অন্যদিকে মাছ এবং গরু-খাসির মাংসের দাম এখনো তুলনামূলক বেশি।
শনিবার (৭ নভেম্বর) নগরীর সাহেববাজারসহ আশপাশের কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে প্রতি কেজি ডায়মন্ড আলু ২০ টাকা, পেঁয়াজ ৪০ টাকা, কাঁচামরিচ ৭০ টাকা, দেশি শসা ৭০ টাকা, বিদেশি শসা ৪০ টাকা, পটল ৩০ টাকা, ঢেঁড়স ৩৫ টাকা, বেগুন ৫০ টাকা এবং বরবটি ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া শীতকালীন সবজির মধ্যে প্রতি কেজি শিম ৮০ টাকা, মুলা ২০ টাকা, ফুলকপি ৪০ টাকা, পাতাকপি ৪০ টাকা, জলপাই ৩০ টাকা, ঝিঙে ৪০ টাকা, করলা ৫০ টাকা ও কচুর লতি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস লাউ ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং পেঁপে ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহের তুলনায় এসব সবজির দাম প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের শাকও আগের তুলনায় কম দামে ও স্থিতিশীলভাবে বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় দাম স্থিতিশীল রয়েছে। বিশেষ করে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়তে থাকায় বাজারে পর্যাপ্ত সবজি পাওয়া যাচ্ছে। ফলে গত সপ্তাহে যে দাম কমেছিল, চলতি সপ্তাহেও তা প্রায় একই পর্যায়ে রয়েছে।
এদিকে ডিম ও মুরগির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় এসব পণ্যের দাম কমেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা, লেয়ার মুরগি প্রায় ৩০০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে প্রতি হালি দেশি মুরগির ডিম ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, হাঁসের ডিম ৬০ টাকা, ফার্মের লাল ডিম ৪৪ টাকা এবং সাদা ডিম ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে মাছের বাজারে এখনো চড়া দাম অব্যাহত রয়েছে। প্রতি কেজি রুই মাছ ২৬০ থেকে ৩০০ টাকা, কাতলা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৭০ থেকে ২০০ টাকা, পাঙাশ ১৭০ থেকে ২০০ টাকা, চাষের কৈ ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং চাষের শিং ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া প্রতি কেজি টেংরা ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, চিংড়ি ৬৫০ থেকে ৯০০ টাকা এবং কোরাল ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজার করতে আসা আব্দুল আলীম বলেন, ‘সবজির দাম গত সপ্তাহের মতোই রয়েছে। এবার ডিম ও মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। এতে সংসারের বাজার খরচে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে। তবে মাছের দাম এখনো বেশি। তাই সবকিছু হিসাব করেই কিনতে হচ্ছে।’
মুরগি বিক্রেতা আকরাম বলেন, ‘গত সপ্তাহের তুলনায় মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নির্ভর করে দাম ওঠানামা করছে। তবে খামারের খাবার ও অন্যান্য খরচ এখনো বেশি থাকায় দাম খুব বেশি কমানো সম্ভব হচ্ছে না।’
সবজি বিক্রেতা রকি বলেন, ‘বাজারে এখন সবজির সরবরাহ ভালো। শীতকালীন সবজি বেশি আসায় দাম আগের সপ্তাহে কমেছিল। চলতি সপ্তাহেও সেই দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। সরবরাহ ভালো থাকলে দাম আরও কিছুদিন স্থিতিশীল থাকতে পারে।