রাজশাহী মোহনপুর উপজেলার ২ নং ঘাসিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাহারুল ইসলাম ওরফে বাবলুর প্রতি অনাস্থা আনায় সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য তহমিনা বিবি কে হেনস্থা, শারীরিকভাবে লাঞ্জিত, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেবার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী তহমিনা বিবি রামেক হাসপাতালের ৩৬ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন। গতকাল ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন রাজশাহী শাখাকে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেন অনাস্থাকারী ইউপি সদস্যরা। গত ৫ মার্চ রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে চেয়ারম্যান তার লোকজন নিয়ে তহমিনা বিবির বাড়িতে গিয়ে এই ধরনের অপকর্ম করেন।
মোট ১২ জন সদস্যের মধ্যে উক্ত সংবাদ সম্মেলনে ৯ জন ইউপি সদস্য অংশগ্রহণ করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তারা জানান, ইউপি চেয়ারম্যান মোহনপুর-পবা আসনের সাবেক সংষদ সদস্য আয়েন উদ্দীনের বড় ভাই হবার কারণে, বছরের পর বছর তিনি অনৈতিক প্রভাব খাঁটিয়ে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও দূর্নীতি করে আসছে। সেগুলোর প্রতিবাদ করতে গেলে রাজনৈতিক প্রভাবে তাদেরকে জোড়পূর্বক দমিয়ে রাখা হয়। ২০২২ সালে বর্তমান পরিষদের সদস্যরা দায়িত্বগ্রহণ করলেও এপর্যন্ত তাদরে বেতন-ভাতা প্রদান করেনি চেয়ারম্যান। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের সরকারি অনুদান ও অর্থসহায়তা আসলেও সেগুলোর সুষ্ঠু বন্টন তিনি করেনি। টিসিবি’র চাল দুস্থ ও গরীব মানুষদেরকে না দিয়ে তিনি তার নিজস্ব ও পরিচিত লোকদেরকে দিয়েছেন। এছাড়াও সরকারি অনুদানের চাল অন্যত্র বিক্রি করে তিন লাখের বেশি টাকা আত্মসাৎ করেন চেয়ারম্যান বাবলু। উল্লেখ্য, এর আগের পরিষদের বেশ কয়েকজন ইউপি সদস্য তার এই অনিয়মরে কারণে নিজ থেকেই ইস্তোফা দেন। ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ সভাতে তিনি আমাদেরকে উপস্থিত থাকতে দেন না। নিজের ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদেরকে নিয়ে সাধারণ সভা তিনি করে থাকেন। আমাদের সাথে কোন বিষয়েই তিনি আলোচনা বা মিটিং করেন না। তদুপরি জোড়পূর্বক আমাদেরকে দিয়ে রেজুলেশনে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। তিনি নিয়মতি অফিসও করেন না। ফোনও রিসিভ করেন না। সাবেক এমপি আয়েন উদ্দীনের প্রভাবে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন।
তার নানামূখি অনিয়ম আর দুর্নীতির কারণে ২নং ঘাসিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল-১ এর চেয়ারম্যান ইমরান হোসেনর সভাপতিত্বে গত ৫ মার্চ ইউপি চেয়ারম্যান আজাহারুল ইনলামের প্রতি অনাস্থা আনেন ৯ নয় ইউপি সদস্য। তারই ধারাবাহিকতায় ইউপি সদস্য তাহমিনা বিবির উপর এমন ধরেনর অমানবিক ও বেআইনী পন্থা প্রয়োগ করেন চেয়ারম্যান বাবলু। তার এই এহন কর্মকান্ডের জন্য ঐদিনই (৫ মার্চ) উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি অনাস্থাপত্র দেন নয়জন ইউপি সদস্য। এছাড়াও মোহনপুর থানাতে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী তাহমিনা বিবি একটি লিখিত অভিযোগ দেন। দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যানের অপসারন চেয়ে ভুক্তভোগীরা সংবাদ সম্মেলনের ইতিটানেন।