নিয়ামতপুরে নিখোঁজ ব্যক্তিকে পরিবারে পৌঁছে দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন গ্রাম পুলিশ
Village police are receiving praise for delivering to families
পলাশ চৌঁড়ে সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন বাবা রশিদ চৌঁড়ে(৬০) বিছানায় নেই। মনে করেছেন পাড়াতেই আছেন হয়তো। পাড়াতে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন সকাল থেকেই তাঁর বাবাকে কেউ দেখেনি। শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। ঘটনাটি ঘটেছে গত রোববার নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার ভাবিচা (জাবড়ীপাড়া) গ্রামে। বিষয়টি জানতে পেরে গ্রাম পুলিশ সাহেব বাবু 'নিজ প্রচেষ্টায়' নিখোঁজ রশিদ চৌঁড়েকে খুঁজে বের করেন। পৌঁছে দেন পরিবারের কাছে। এতে পরিবারসহ এলাকাবাসীর প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।
রশিদ চৌঁড়ের ছেলে পলাশ চৌঁড়ে জানান, তাঁর বাবা গত কয়েকদিন আগে অসুস্থ বোধ করায় উপজেলা সদরে একজন চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। চিকিৎসক তাঁকে জানান, তাঁর বাবার 'প্রেসারটা হাই' রয়েছে। কিছু ওষুধ লিখে দিয়ে বাড়িতে বিশ্রাম নিতে বলেন। এর মধ্যেই হঠাৎ রোববার সকাল থেকে তাঁর বাবাকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না।
গ্রাম পুলিশ সাহেব বাবু বলেন,
'আমি নিখোঁজ হওয়ার খবরটা পেয়ে একরকম নিজের আগ্রহে রশিদের বাড়িতে গিয়ে সব শুনে আসি। এরপর বিষয়টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও উপজেলার সব গ্রাম পুলিশকে অবহিত করি। নিজেও মোটরসাইকেল নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় খুঁজতে থাকি।
অবশেষে আজ মঙ্গলবার দুপুরে এক গ্রাম পুলিশের মারফত খবর পেয়ে উপজেলার আড্ডা এলাকায় তাঁকে খুঁজে পাই। সেখান থেকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দিই।'
পলাশ চৌঁড়ে বাবাকে খুঁজে পেয়ে খুব খুশি। তিনি গ্রাম পুলিশ সাহেব বাবুর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিষয়টি জানানো হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুর্শিদা খাতুন বলেন, একজন গ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় ও প্রচেষ্টায় হারানো ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া গেলে সেটা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। তিনি তাঁর কর্তব্য পালন করেছেন।
এভাবে একে অপরের বিপদে নিঃস্বার্থভাবে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।