২২ ফেব্রুয়ারি: বাংলাদেশ রেলওয়ে স্কাউটস ও বিপি দিবস

Bangladesh Railway Scouts and BP Day
জাহিদুল হক শ্রাবণ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৫৪ অপরাহ্ন মতামত
জাহিদুল হক শ্রাবণ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৫৪ অপরাহ্ন
২২ ফেব্রুয়ারি: বাংলাদেশ রেলওয়ে স্কাউটস ও বিপি দিবস
২২ ফেব্রুয়ারি, স্কাউট অঙ্গনের জন্য এক আনন্দময়, গর্বময় ও স্মরণীয় দিন – বিপি দিবস।

২২ ফেব্রুয়ারি, স্কাউট অঙ্গনের জন্য এক আনন্দময়, গর্বময় ও স্মরণীয় দিন – বিপি দিবস। ১৮৫৭ সালের এই দিনে লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন স্কাউট আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা সার রবার্ট স্টিফেন্সন স্মিথ লর্ড বেডেন-পাওয়েল। তিনি বিশ্বজুড়ে যুবসমাজকে নেতৃত্ব, সেবা এবং চরিত্র গঠনের মাধ্যমে সমাজের জন্য অবদান রাখার অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন। বিশ্বের সকল স্কাউট সদস্যরা এই দিনটি আনন্দ ও শ্রদ্ধার সঙ্গে উদযাপন করে থাকেন।

স্কাউট আন্দোলন ১৯০৭ সালে ব্রিটিশ ভারতে শুরু হলেও, রেলওয়ে স্কাউটিং প্রথমবার কার্যক্রম চালু হয় ১৯২২ সালে। স্বাধীনতার আগে পশ্চিম পাকিস্তানে রেলওয়ে স্কাউটিং কার্যকর থাকলেও, পূর্ব পাকিস্তান তথা বর্তমান বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটি ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত শুরু হয়নি।

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ শিশু হাসপাতাল ও শিশুপার্কের ধানী জমিতে অনুষ্ঠিত তৎকালীন দ্বিতীয় জাতীয় জাম্বুরীতে রেলওয়ে কর্মচারিরা স্কাউটিংয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাকিস্তান বয় স্কাউট সমিতির সেক্রেটারি মীর মহসিন সাহেব এবং পূর্ব পাকিস্তান রেলওয়ে জেনারেল ম্যানেজার এম.এ. আব্বাসী এর সহানুভূতিতে রেলওয়ে স্কাউটিং কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

বিপির জন্মের ১০২তম দিনে, ১৯৫৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি, পাকিস্তান ইস্টার্ন রেলওয়ে স্কাউট এসোসিয়েশন আনুষ্ঠানিকভাবে রোভার শাখার কার্যক্রম শুরু করে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ বয়-স্কাউট সমিতি রেলওয়ে কে আঞ্চলিক স্কাউট মর্যাদা প্রদান করেন। ৮ এপ্রিল ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ স্কাউটস রেলওয়ে অঞ্চল আজ দেশের ১৮টি রেলওয়ে জেলার মাধ্যমে বিস্তৃত।

রেলওয়ে স্কাউটিং এর ইতিহাস সংরক্ষণ ও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য ২০২২ সালে আঞ্চলিক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ ও প্রচারণা চালানো হয়েছে। এই উদ্যোগে তৎকালীন আঞ্চলিক কমিশনার অসীম কুমার তালুকদার, আঞ্চলিক সম্পাদক মোঃ সুবক্তগীন, আঞ্চলিক উপকমিশনার (আইসিটি) জীবন কুমার সরকার এবং তরুণ স্কাউট নেতা আরাফাত জামিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে রেলওয়ে স্কাউটিং প্রতিষ্ঠায় সরাসরি যুক্ত আলহাজ্ব মোঃ ছায়ফুর রহমান, এলটি স্যারের সাক্ষাৎকার ও তথ্য সংগ্রহ এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে রইল।

বাংলাদেশ স্কাউটস রেলওয়ে অঞ্চলের আওতায় বর্তমানে ১৮টি জেলা অন্তর্ভুক্ত, যেগুলো হল:

ঢাকা, আখাউড়া, চট্টগ্রাম, পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম বন্দর, লাকসাম, লালমনির হাট, সৈয়দপুর, পার্বতীপুর, পাকশী, খুলনা, রাজশাহী, সান্তাহার, সিলেট। প্রতিটি জেলায় স্কুল, কলেজ ও রেলওয়ে প্রতিষ্ঠানে স্কাউটিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। হাজার হাজার তরুণ সদস্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ, শিবির এবং সামাজিক সেবা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছে, যা রেলওয়ে অঞ্চলের শক্তি ও প্রগতির প্রমাণ।

রেলওয়ে অঞ্চলের সব স্কাউট সদস্যরা, রোভার থেকে জুনিয়র স্কাউট পর্যন্ত, একত্রে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, শিবির, সামাজিক সেবা এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। তারা কেবল স্কাউটিংয়ের মূলনীতি মেনে চলছে না, বরং সমাজ ও দেশের সেবায় নিজেদের সময়, দক্ষতা ও উদ্যম উৎসর্গ করছে। প্রতিটি জেলা ও সদস্য এই সংগঠনকে শক্তিশালী, প্রগতিশীল এবং গৌরবময় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

আজকের এই দিনে, আমি সকলকে রেলওয়ে স্কাউট দিবস এবং বিপি দিবসের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। আমাদের প্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ স্কাউটস রেলওয়ে অঞ্চল আশা করি, প্রতিটি নেতা, কর্মী এবং সদস্যের অবদান যথাযথভাবে স্বীকৃত হবে। সংগঠনটি ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং আত্মত্যাগের মূল্য সংরক্ষণে সর্বদা সচেষ্ট থাকবে। আমাদের প্রিয় স্কাউটরা কেবল নিজেদের বিকাশে নয়, বরং সমাজ ও দেশের সেবায় নিজেদের সময়, দক্ষতা ও উদ্যম উৎসর্গ করছে। এটি প্রমাণ করে যে, একটি দৃঢ় প্রতিষ্ঠান শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যতের প্রজন্মের জন্যও দিকনির্দেশনা এবং শিক্ষার একটি স্থায়ী উৎস হয়ে থাকে।

লেখক : জাহিদুল হক শ্রাবণ ,রোভার মেট, অগ্নিবীণা রেলওয়ে মুক্ত স্কাউট গ্রুপ