ইরান যুদ্ধ

পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে

The situation is gradually deteriorating
অনলাইন ডেস্ক ০৭ মার্চ ২০২৬ ১১:৩২ পূর্বাহ্ন বিশ্ব/আন্তর্জাতিক
অনলাইন ডেস্ক ০৭ মার্চ ২০২৬ ১১:৩২ পূর্বাহ্ন
পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে
__সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন শুধুই বারুদ আর আগুনের। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে ইরান। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানে কমপক্ষে ১ হাজার ৩৩২ জন নিহত হয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী এ সংঘাত ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। দুই পক্ষই একে অপরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে।

হামলার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ১ হাজার ৩৩২ জনে। তেহরানের প্রধান বাণিজ্যিক বিমানবন্দর মেহরাবাদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। তেহরানের বাসিন্দারা বিবিসি পার্সিয়ানকে জানিয়েছেন, ‘গত রাতটি ছিল এ পর্যন্ত সবচেয়ে ভয়াবহ রাত’ এবং তারা বর্ণনা করেছেন, প্রতি কয়েক ঘণ্টা পরপরই সেখানে হামলা চালানো হচ্ছে। আইআরজিসি পাল্টা ২৩তম দফা হামলার ঘোষণা দিলেও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তোড়ে তা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যেকোনো চুক্তির একমাত্র পূর্বশর্ত হলো আত্মসমর্পণ। তিনি বলেন, ‘ইরান গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হলো কি না তা নিয়ে আমি চিন্তিত নই; বরং তিনি এমন নেতৃত্ব খুঁজছেন যারা যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট দাবি করেছেন, আগামী ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যেই তারা লক্ষ্য অর্জন করবেন এবং ইরানের আকাশসীমা পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

কাতার ও ওমানের মতো উপসাগরীয় দেশগুলো এই যুদ্ধে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী সাদ আল খাবি সতর্ক করেছেন, যুদ্ধ না থামলে বিশ্ব অর্থনীতি ধসে পড়বে এবং যেকোনো মুহূর্তে জ্বালানি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

ইরানের পাশাপাশি লেবাননের ওপরও চড়াও হয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। বৈরুতসহ দক্ষিণ লেবাননে টানা হামলায় গত সোমবার থেকে ২১৭ জন নিহত হয়েছেন। নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের তথ্যমতে, মাত্র ১০০ ঘণ্টার ব্যবধানে ৩ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। এর জবাবে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা চালালেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।

রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইরানকে সহায়তার গুঞ্জন শোনা গেলেও মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ রহস্যজনকভাবে বলেছেন, ‘ট্রাম্প খুব ভালো করেই জানেন কে কার সঙ্গে কথা বলছে।’ অন্যদিকে, সিআইএ কর্তৃক কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র সরবরাহের খবর ফাঁস হওয়ার পর থেকেই উত্তর ইরাকের কুর্দি ক্যাম্পগুলোতে বৃষ্টির মতো ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান।

যুদ্ধের অবসান ঘটাতে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ‘পরিস্থিতি যে কারও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।’