প্রেমের বিয়ে, মেনে না নেওয়ায় ইঁদুর মারার বিষে শেষ পরিণতি দম্পতির

বিজয়বাংলা নিউজডেক্স : ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:২৭ অপরাহ্ন সারা বাংলা
বিজয়বাংলা নিউজডেক্স : ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:২৭ অপরাহ্ন
প্রেমের বিয়ে, মেনে না নেওয়ায় ইঁদুর মারার বিষে শেষ পরিণতি দম্পতির
__সংগৃহীত ছবি

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার একই গ্রামে দীর্ঘদিনের প্রেমের পর মাত্র ৫ মাস আগে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু সেই প্রেম সফল হয়নি, সংসারও করা হয়নি। ছেলের পরিবার বিয়ে মেনে না নেওয়ায় ৫ মাস পরও থাকতে হতো আলাদা। একারণে রাগে-অভিমানে ইঁদুর মারার বিষ খেয়ে স্বামী ও স্ত্রী দুইজন আত্মহত্যা করেছেন।

রোববার (২৬ এপ্রিল)  সকালে দিরাই উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের মাহফুজুর রহমানের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া স্বামী-স্ত্রী হলেন- সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের আজিজুর রহমান ওরফে কুঞ্জন মিয়ার ছেলে মাহফুজুর রহমান (১৮) ও তার স্ত্রী একই গ্রামের মোর্শেদ মিয়ার মেয়ে মনিকা আক্তার (১৫)। 

স্বামীর বাড়ির লোকজনের দাবি, দাম্পত্য কলহের জের ধরে স্বামী-স্ত্রী বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে স্ত্রীর বাড়ির লোকদের অভিযোগ, প্রেমের বিয়ে মেনে না নিয়ে শ্বশুর বাড়ির লোকজন প্রায়ই মনিকাকে নির্যাতন করতেন। মনিকার খাবারের সাথে বিষ জাতীয় কিছু মিশিয়ে দিলে সেই খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে খবর পেয়ে তার স্বামী মাহফুজও সেই খাবার খেয়ে মারা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিরাই উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের মাহফুজুর রহমান মোবাইল ফোনের কথা বলা থেকে প্রেম করে একই গ্রামের মনিকা আক্তারকে বিয়ে করেন ৫ মাস আগে। কিন্তু মাহফুজের পরিবার সেই বিয়ে মেনে নেয়নি। শর্ত অনুযায়ী বিয়ের পরই মাহফুজকে কাজের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। সম্প্রতি বাড়ি ফিরলেও পৃথকভাবে থাকতে হত মনিকা ও মাহফুজকে। একদিন মাহফুজ ও মনিকাকে একত্রে দেখতে পেয়ে মাহফুজকে গালাগাল ও মারধর করেন তার বাবা। পরে রাগে ও অভিমানে দুইজন একসাথে আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন তারা। ইঁদুর মারার কথা বলে ছোট ভাইকে দিয়ে বাজার থেকে চারটি বিষের ট্যাবলেট আনান মাহফুজ।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বামী-স্ত্রী একসাথে ইঁদুর মারার ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যার কথা থাকলেও মনিকা আগেই দুইটি ট্যাবলেট খেয়ে ফেলে এবং মোবাইল ফোনে স্বামীকে জানায়। পরে স্বামী মাহফুজ হাওর থেকে বাড়ি ফিরে এসে দুইটি ট্যাবলেট খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। দুইজনকে দ্রুত উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মনিকা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য মাহফুজকে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে পথেই মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাহফুজের বাবা কথা বলতে রাজি হননি।

মনিকার চাচা (তার বাবার চাচতো ভাই) বদরুল আলম বলেন, পছন্দ করে বিয়ে করায় মনিকাকে মেনে নিতে পারেনি তার পরিবার। নানাভাবে নির্যাতন করত, স্বামী স্ত্রীকে আলাদা ঘরে রাখতো। আজ সকালে মনিকার খাবারের সাথে বিষ দিয়ে দেওয়ার পর সেই খাবার খেয়ে মনিকা অসুস্থ হয়ে পড়লে মাহফুজও সেই খাবার খেয়ে ফেলে। পরে দুইজনই মারা যায়। আমরা এই মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। পুলিশ আজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে গিয়েছে। আমরা আগামীকাল থানায় অভিযোগ দাখিল করব।

মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা রফিনগর ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, যতদূর জানি, মাহফুজ ও মনিকার মৃত্যুর জন্য মাহফুজের পরিবার অনেকটাই দায়ী। তারা এই বিয়ে মেনে নিতে পারেনি। বিয়ের পর বাসর ঘরই করা হয়নি তাদের। শর্ত অনুযায়ী মাহফুজকে ঢাকায় পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। সম্প্রতি মাহফুজ বাড়ি ফিরলেও স্বামী-স্ত্রীকে নাকি পৃথক ঘরে রাখা হত। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাহফুজকে মারধরও করা হয়েছে। রাগে-অভিমানে তারা একসাথে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং এই ঘটনা ঘটিয়েছে। শুনেছি মনিকার চাচা বদরুল আলম থানায় অভিযোগ করবেন।

দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হক চৌধুরী বলেন, মির্জাপুর গ্রামের কম বয়সী স্বামী-স্ত্রী আজ সকাল ১০টার দিকে বাড়িতে বিষপান করে। পরে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। কী কারণে তারা আত্মহত্যা করেছে তা সঠিকভাবে জানা যায়নি। এই ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ময়নাতদন্তের জন্য স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।