একাধিক পদে চাকরিরত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মাউশির শোকজ

Maushir's complaint against serving teachers
আবুল কালাম আজাদ ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৫:৩৫ অপরাহ্ন নির্বাচিত সংবাদ
আবুল কালাম আজাদ ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৫:৩৫ অপরাহ্ন
একাধিক পদে চাকরিরত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মাউশির শোকজ
একাধিক পদে চাকরিরত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মাউশির শোকজ

একাধিক লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত রাজশাহী জেলার ২৯ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগ নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), রাজশাহী অঞ্চল।

গত ১১ এপ্রিল রাজশাহী বিভাগীয় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা মন্ত্রী এহসানুল হক মিলন স্পষ্ট নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, “জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ এর ধারা ১১.১৭ (ক) অনুযায়ী কোনো এমপিওভুক্ত শিক্ষক বা কর্মচারী একই সঙ্গে একাধিক চাকরি বা আর্থিকভাবে লাভজনক কোনো পদে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না।” তিনি আরও বলেন, এ ধরনের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির এমপিও বাতিলসহ বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষা মন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ এপ্রিল মাউশির রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর মোহা. আছাদুজ্জামান জেলার বিভিন্ন উপজেলার ২৯ জন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন। তারা বিভিন্ন কলেজ, স্কুল ও মাদ্রাসায় কর্মরত। অভিযোগ রয়েছে, এসব শিক্ষক একই সঙ্গে নিকাহ্ রেজিস্ট্রার (কাজী) হিসেবে সরকারি তালিকাভুক্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন, যা বিধিমালার পরিপন্থী।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, কেন তারা নিয়ম ভঙ্গ করে একাধিক আর্থিকভাবে লাভজনক পদে নিয়োজিত রয়েছেন—এ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে দাখিল করতে হবে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গোদাগাড়ী উপজেলার জয়রামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও কাকনহাট পৌরসভার নিকাহ্ রেজিস্ট্রার রেজোয়ানুর রহমান মতিন বলেন, “আমরা ২০০২ সালে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই নিকাহ্ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করে আসছি। এ বিষয়ে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়েছি।”

তিনি বলেন, আগামী ৩০ এপ্রিল তাদের সমিতির পক্ষ থেকে মাউশি অধিদপ্তরে নোটিশের জবাব দেওয়া হবে।

মোহনপুর উপজেলার হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক এবং নাটোরের বাগাতিপাড়া কৃষ্ণপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কমল কুমার পাল এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, তারা সমিতির মাধ্যমে অফিসিয়ালি জবাব দেবেন।

এ বিষয়ে পরিচালক প্রফেসর মোহা. আছাদুজ্জামান বলেন, শিক্ষকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে জবাব দাখিলের সময়সীমা বাড়িয়ে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রাপ্ত জবাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিষয়ে রাজশাহী জেলা রেজিস্ট্রার আব্দুর রকিব সিদ্দিক বলেন, “আমার কাছে এ সংক্রান্ত কোনো চিঠি আসেনি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত না জেনে মন্তব্য করা সম্ভব নয়।”