হাঁস নিয়ে ভৌঁ-দৌড়, পেছন পেছন ছুটলো সবাই...

Running around with ducks
সবুজ সরকার, নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: ১৪ মে ২০২৬ ১২:৩৭ অপরাহ্ন সারা বাংলা
সবুজ সরকার, নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: ১৪ মে ২০২৬ ১২:৩৭ অপরাহ্ন
হাঁস নিয়ে ভৌঁ-দৌড়, পেছন পেছন ছুটলো সবাই...
। সবার অগোচরে গ্রামে ঢুকে একটা চীনা হাঁস নিয়ে মাঠের মধ্যে ভৌঁ-দৌড়।

পুরুষেরা গেছে মাঠে। নারীরা ব্যস্ত গৃহস্থালির কাজে। শিশুরা মেতেছে খেলাধুলায়।

সুযোগটা কাজে লাগিয়েছে শিয়াল। সবার অগোচরে গ্রামে ঢুকে একটা চীনা হাঁস নিয়ে মাঠের মধ্যে ভৌঁ-দৌড়। তবে কপাল খারাপ। টের পেয়ে গেল নারী-শিশুরা। শিয়ালের  পিছে পিছে ছুটলো সবাই। অবশেষে আধা ঘণ্টা তাড়া করে হাঁসটাকে অর্ধ মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা গেল। 

এমন ঘটনা ঘটেছে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার সাতঘরা এলাকায় । বুধবার (১৩ মে) সকালে গ্রামের বিশ্বনাথের একটা চীনা হাঁস নিয়ে  যায় শিয়ালে। 

গ্রামবাসী জানিয়েছে, মাঝেমধ্যেই  শিয়াল এসে গ্রামের লোকজনের হাঁস-মুরগি নিয়ে যায়। মাঠের পাশে গ্রাম হওয়াতে শিয়ালের এ উপদ্রব বেশি। 

বিশ্বনাথ জানালেন, 'আমার ১১টা চীনা হাঁস ছিল। এখন তিনটা থাকলো। দুইটা বিক্রি করেছি। ছয়টা শিয়ালেই খেয়ে ফেলেছে। ১০ দিন আগেও একটা বড় সাইজের হাঁস নিয়ে গিয়েছে।  গত কয়েক মাসেই ছয়টা হাঁস সাবাড় করে দিল শিয়ালে।'

তিনি জানালেন, 'একটা বড় সাইজের চীনা হাঁস প্রায় ২ হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়। শিয়ালে ছয়টা হাঁস খেয়ে আমার ১২ হাজার টাকার ক্ষতি করে ফেললো।'

তিনি দুঃখ করে বললেন, 'আমরা গরিব মানুষ। হাঁস-মুরগি পালন করে দুইটা টাকা রোজগার করি। এভাবে শিয়ালে খেয়ে ফেললে আমরা কিভাবে চলবো।' জাল দিয়ে ঘিরে দিয়েও  হাঁসগুলোকে শিয়ালের হাত থেকে রক্ষা করা যাচ্ছে না বলে জানালেন তিনি।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বাড়িতে কয়েকটা ডিম আছে। সেগুলো দিয়ে আবার কুচা (ডিমে তাপ দেওয়া) লাগাতে দিবো। বাচ্চা ফুটলে এবার সাবধানে রাখতে রাখতে হবে। শিয়ালে যেন খেতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। 

ওই এলাকার গ্রাম্য পশু চিকিৎসক মো. সুমন বলেন, চিকিৎসা করতে এলাকার বিভিন্ন গ্রামে গেলে মাঝেমধ্যেই শুনতে পাই শিয়ালে কারও হাঁস নিয়ে গেছে, কারও মুরগি ধরে নিয়ে গেছে। গরিব মানুষেরা বাড়তি আয়ের জন্য এসব হাঁস-মুরগি পালন করে। শিয়ালে এভাবে খেয়ে নিলে তাঁদের জন্য কষ্টকর হয়।

রাজশাহী বন বিভাগের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন্য প্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির বলেন, শিয়ালের খাবারের অভাব হলে অনেক সময় তাঁরা লোকালয়ে ঢুকে পড়ে গ্রামের লোকজনের হাঁস-মুরগি ধরে নিয়ে যায়। এছাড়া তাঁদের আবাসস্থল ধ্বংস ও সেখানে কোনো ধরনের বিরক্ত করলেও তাঁরা লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। অনেক সময় প্রজনন মৌসুমেও তাঁরা লোকালয়ে চলে আসে। তাই গ্রামের লোকজনদের সজাগ ও সাবধান থাকতে হবে।