প্রতি কেজি ৫৮০ টাকা ধরে লাইভ ওয়েটে গরু বিক্রি, শীর্ষে ছোট আকার

small size at the top
অনলাইন ডেস্ক ১৭ মে ২০২৬ ০৫:৪৩ অপরাহ্ন জাতীয়
অনলাইন ডেস্ক ১৭ মে ২০২৬ ০৫:৪৩ অপরাহ্ন
প্রতি কেজি ৫৮০ টাকা ধরে লাইভ ওয়েটে গরু বিক্রি, শীর্ষে ছোট আকার
সংগৃহীত ছবি

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর আশপাশের খামার ও ফার্মগুলোতে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর কেনা-বেচা। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা এখন সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। এক লাখ থেকে দুই লাখ টাকার দামের গরুর দিকে অধিকাংশ ক্রেতার আগ্রহ বলে দাবি করছেন খামারির মালিক ও দায়িত্বশীলরা। তবে প্রতি কেজি ৫৮০ টাকা করে, খামারে থাকা ছোট গরুগুলো লাইভ ওয়েটে (জীবন্ত ওজন অনুযায়ী) বিক্রি করা হচ্ছে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ‘আল-মদিনা ক্যাটল ফার্মে’ সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মোহাম্মদপুর তিন রাস্তা থেকে গাবতলী যাওয়ার সড়কের পাশেই বিশাল টিনশেডের আধাপাকা একটি খামার। বাইরে ছোট একটি ব্যানার থাকলেও ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে সারিবদ্ধ শত শত গরু ও মহিষ। সাদা, কালো ও ব্রাউন রঙের সুস্থ-সবল গরুগুলো দেখলেই যে কারও নজর কাড়বে। ঈদের হাট এখনো না বসলেও খামারটিতে ক্রেতাদের ভিড় ছিল দেখার মতো। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ গরুর লেজ নেড়ে দেখতেও দেখা যায়।

খামারের দায়িত্বশীলরা জানান, বর্তমানে খামারে শাহীওয়াল, দেশাল, অ্যালবিনো, বাফেলো, হাশা গরু, উলবাড়ি গরু, নেপালি গরু, ভুট্টি গরু, কালো মহিষ রয়েছে। খামারটিতে এক লাখ টাকার নিচে দামের গরুর পাশাপাশি ২০ লাখ টাকার বেশি দামের গরুও রয়েছে। দেশি গরুর পাশাপাশি ভারতীয়, নেপালি সহ বিভিন্ন জাতের বিদেশি গরুও দেখা মিলছে। খামারটি দিন-রাত ২৪ ঘণ্টায় খোলা থাকে।

আল মদিনা ক্যাটল ফার্মের ম্যানেজার আরিফ হোসেন রাজিব ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমাদের ফার্মে বর্তমানে ৩০০ থেকে ৩৫০টি গরু ও মহিষ রয়েছে। আমাদের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ গরু বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে বড়ো জাতের গরু রয়েছে। বর্তমানে দেশি গরু কেনার ক্রেতার আগ্রহ বেশি। এছাড়া শাহীওয়াল জাতেরও অনেক চাহিদা আছে। তবে মহিষের প্রতি মানুষের এখন প্রচুর চাহিদা। আমরা অনেক মহিষ বিক্রি করছি।

তিনি আরও বলেন, ক্রেতাদের এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকার গরু ও দুই লাখ টাকার গরুর প্রতি প্রচুর চাহিদা রয়েছে। এই দামের গরু আমাদের শেষ হয়ে গেছে।

ফার্মে দায়িত্বশীলরা জানান, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। তবে এবার ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর দিকে। ফলে এসব গরুই দ্রুত বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। যারা আজকে বুকিং দিয়েছে, তারা ৫০ শতাংশ দিয়ে যাচ্ছেন, তাদের আমরা ঈদের আগেই গরু ডেলিভারি করবো। কাস্টমার যখন চায় তখনই ডেলিভারি করা হবে। তবে গাড়ি ভাড়া আলাদাভাবে দিতে হয়। গরু কিংবা মহিষ যেদিন নেবে সেদিনই লাইভ ওয়েট অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করা হবে।

শ্যামলী থেকে ফার্মে গরু কিনতে আসা শফিউল উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আজকে দেখতে আসলাম। পছন্দ তো হচ্ছে কিন্তু বাজেট তো নাই। তাদের ছোট গরু বিক্রি হয়ে গেছে। আমার বাজেট এক লাখ ২০ হাজার থেকে এক লাখ ৫০ হাজার। আর দামওটা একটু বেশি মনে হচ্ছে। শুনেছি ৫০০ টাকার নিচে লাইভ ওয়েট। কিন্তু এসে দেখি ৫৮০ টাকা। এখন হাটের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

গরুর কিনতে আসা রবিউল নামে আরেক ক্রেতা বলেন, গরু দেখছি। বেশি বড়ো কেনা যাবে না। বড়ো গরু জবাই করতে সমস্যা। আমরা ছোট আকারে ছোট মানুষ। আমাদের কসাইরাও আকারে ছোট মানুষ। বড় গরু কিনে জবাইতে সমস্যা পড়তে হয়। দেখি পছন্দ করে একটি বুকিং দিয়ে যাব।

এদিকে গরুর হাট থেকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ফার্ম পরিদর্শন করেন। তারা জানান, আমরা গরুর দাম ও সাইজ দেখতে এসেছি। হাটে অনেক ময়লা থাকে, তাই ফার্মে এসেছি।