স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বাড়াতে

The government is implementing various plans to increase the capacity of the fire service.
অনলাইন ডেস্ক ১৯ মে ২০২৬ ০২:৫৯ অপরাহ্ন জাতীয়
অনলাইন ডেস্ক ১৯ মে ২০২৬ ০২:৫৯ অপরাহ্ন
সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বাড়াতে
সংগৃহীত ছবি

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সক্ষমতা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সারাদেশে নতুন ফায়ার স্টেশন নির্মাণ, অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহ, জনবল বৃদ্ধি, ডুবুরি ইউনিট সম্প্রসারণ এবং আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা গড়ে তোলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬, পাসিং আউট প্যারেড ও পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। যেকোনো দুর্যোগ-দুর্ঘটনায় এ বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের জানমাল রক্ষায় কাজ করেন। দেশের মানুষের কাছে তারা এখন নির্ভরতার প্রতীক।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, অগ্নিকাণ্ড, সড়ক দুর্ঘটনা, বন্যা, ভবনধস ও ভূমিকম্পের ঝুঁকির কারণে ফায়ার সার্ভিসের গুরুত্ব দিনদিন বাড়ছে। এ কারণে বাহিনীর জন্য আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষিত জনবল ও পর্যাপ্ত সরঞ্জাম নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে সারাদেশে ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশনের মাধ্যমে সেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে চাহিদার তুলনায় তা পর্যাপ্ত নয়। এজন্য ২০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ প্রকল্প চলমান রয়েছে। একইসঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্প্রসারণে ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহের কাজও এগিয়ে চলছে।

তিনি আরও বলেন, ডুবুরিদের সক্ষমতা বাড়াতে সম্প্রতি ৭২টি নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের অর্গানোগ্রাম পুনর্গঠন করে সদস্য সংখ্যা ৩০ হাজারের বেশি করার পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফায়ার সার্ভিসের সেবা সহজ করা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গত ১ মে থেকে অনলাইনভিত্তিক ই-ফায়ার লাইসেন্স কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে তিনি ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়েও সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। 

মন্ত্রী বলেন, সদস্যদের আবাসন সমস্যা সমাধানে ঢাকার মিরপুর ও সদরঘাট এলাকায় বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। এছাড়া মিরপুরে সদর দপ্তর ভবন নির্মাণও চলমান রয়েছে। তাছাড়া বাহিনীর সদস্যদের জন্য বিশেষ ভাতা হিসেবে ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ ভাতা এবং ফ্রেশ মানি দেওয়ার বিষয়টি পর্যালোচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 

বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকাজে নিহত ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ বাহিনীর ৫২ জন সদস্য জীবন উৎসর্গ করেছেন।

তিনি ফায়ার সার্ভিসের সফলতা ও আভিযানিক কার্যক্রম জানান, ২০২৫ সালে ফায়ার সার্ভিস ২৭ হাজার ৫৯টি অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে প্রায় ৩ হাজার ২৬৩ কোটি টাকার সম্পদ উদ্ধার করেছে। একই সময়ে ৭ হাজার ৮১৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ৯ হাজার ২৬৬ জন ও নিহত ১ হাজার ৩৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রায় ১৫ হাজার গণসংযোগ কার্যক্রম, ১০ হাজারের বেশি ভবন পরিদর্শন এবং আড়াই লাখের বেশি মানুষকে অগ্নিনিরাপত্তা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

পাসিং আউট প্যারেডে স্টেশন অফিসার ও স্টাফ অফিসার ক্যাটাগরিতে ১২ জন, ফায়ার ফাইটার ক্যাটাগরিতে ১৫৮ জন, নার্সিং অ্যাটেনডেন্ট ক্যাটাগরিতে ২ জন, ড্রাইভার ক্যাটাগরিতে ৫৬ জন, ডুবুরি ক্যাটাগরিতে ৬ জনসহ মোট ২৩৪ জন অংশগ্রহণ করেন। 

মন্ত্রী বহুমাত্রিক বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৮৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাতে পদক তুলে দেন। পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছে ২০২৩ সালের ৩৪ জন এবং ২০২৪ সালের ৫০ জনসহ মোট ৮৪ জন।



এসআইএল/বিবিএন