স্থানীয় সরকার নির্বাচন

কোনও ধরনের রক্তপাত যেন না হয়, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য : সিইসি

AMM Nasir Uddin
অনলাইন ডেস্ক ২১ মে ২০২৬ ০৮:০৭ অপরাহ্ন জাতীয়
অনলাইন ডেস্ক ২১ মে ২০২৬ ০৮:০৭ অপরাহ্ন
কোনও ধরনের রক্তপাত যেন না হয়, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য : সিইসি
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন--সংগৃহীত ছবি

দেশে আগামী এক বছরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সহিংসতা ও প্রাণহানি ঠেকানো। তার ভাষায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রক্তপাত বন্ধই এখন নির্বাচন কমিশনের প্রধান চ্যালেঞ্জ। 

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সিইসি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস।

সিইসি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কমিশনের সামনে এখন বিশাল দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৪ হাজার ৫৮১ ইউনিয়ন, ৫০০ উপজেলা, ৬১ জেলা, ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং ৩৩০টি পৌরসভার নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

তিনি বলেন, “গণতন্ত্র শুধু জাতীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়, এটি তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি জনগণকে সেবা দেয়, তাই তৃণমূলের গণতন্ত্র আরও গুরুত্বপূর্ণ।”

স্থানীয় নির্বাচনকে জাতীয় নির্বাচনের সমমানের মানদণ্ডে আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, নির্বাচন কমিশনের চেষ্টার কোনও ঘাটতি থাকবে না।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে অতীতের সহিংসতার চিত্র তুলে ধরে সিইসি জানান, ২০১৬ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ২৩৬ জন এবং ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১১৬ জন নিহত হন। তিনি বলেন, স্থানীয় নির্বাচনের সময় ব্যাপক সংঘর্ষ, আহত ও প্রাণহানির ঘটনা বাংলাদেশের পুরোনো বাস্তবতা।

তার ভাষায়, “লোকাল গভর্নমেন্ট ইলেকশনে মারামারি থামাতে হবে। এই জিনিস থামানোই বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা কোনও রক্তপাত চাই না।”

সহিংসতা এড়াতে নির্বাচন কমিশন সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাবে বলেও জানান সিইসি। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলসহ সব পক্ষকে সম্পৃক্ত করে একটি শান্তিপূর্ণ ও রক্তপাতহীন নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করা হবে।

রাজনৈতিক সরকারের অধীনে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজন কঠিন হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, সব পক্ষের সহযোগিতা নিয়েই সহিংসতা প্রতিরোধে কাজ করবে নির্বাচন কমিশন। তার মতে, “কোনও ধরনের রক্তপাত যেন না হয়, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”