বগুড়ায় গলা কেটে হত্যার শিকার রুয়েট শিক্ষার্থীর মা

Mother of RUET student whose throat was slit
রুয়েট প্রতিনিধি ২৩ মে ২০২৬ ০৪:২৫ অপরাহ্ন সারা বাংলা
রুয়েট প্রতিনিধি ২৩ মে ২০২৬ ০৪:২৫ অপরাহ্ন
বগুড়ায় গলা কেটে হত্যার শিকার রুয়েট শিক্ষার্থীর মা
বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় মধ্যরাতে ঘরে ঢুকে রীতা রানী মজুমদার (৪৫) নামের এক গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।-প্রতিকী ছবি

বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় মধ্যরাতে ঘরে ঢুকে রীতা রানী মজুমদার (৪৫) নামের এক গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (২০ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার সুখানপুকুর ইউনিয়নের মমিনহাটা দক্ষিণপাড়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত রীতা রানী মজুমদার ওই এলাকার বিধান চন্দ্র রায় মজুমদার-এর স্ত্রী। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে ছেলে বিশ্বজিৎ মজুমদার রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পুরকৌশল বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত। পড়াশোনা ও চাকরির কারণে ছেলে-মেয়েরা ঢাকায় অবস্থান করায় বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী দুজনই বসবাস করতেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত ১০টার দিকে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে রাতের খাবার শেষ করে নিজ নিজ কক্ষে ঘুমাতে যান। বিধান চন্দ্র পাশের ঘরে ধর্মচর্চা শেষে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ১২টার পর হঠাৎ দরজায় জোরে ধাক্কার শব্দে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। একই সময় পাশের ঘর থেকে স্ত্রীর গোঙানির শব্দ শুনে দ্রুত সেখানে ছুটে যান তিনি।

ঘরের আলো জ্বালিয়ে মেঝেতে স্ত্রীর গলা কাটা রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করেন তিনি। স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এলেও ততক্ষণে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। ঘটনার সময় বাড়ির সদর দরজা খোলা অবস্থায় পাওয়া যায় বলে জানা গেছে।

ঘটনাস্থলে গিয়ে গাবতলী সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। সহকারী পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবীর জানান, খবর পেয়ে রাতেই তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং শয়নকক্ষের মেঝে থেকে ওই গৃহবধূর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেন। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

পরে গাবতলী মডেল থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহতের ছেলে বিশ্বজিৎ মজুমদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর সহপাঠী তুষারের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিক কিছু তথ্য জানা যায়। তিনি জানান, ঘটনার রাতে রাত ১২টার পর হঠাৎ চিৎকার করে ওঠেন বিশ্বজিৎ। পরে রুমমেটদের মাধ্যমে তিনি মায়ের হত্যার খবর জানতে পারেন। রাতেই বিশ্বজিৎ ও তাঁর বোনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তায় গাড়িযোগে বগুড়ায় পাঠানো হয়।

তুষার আরও জানান, গ্রামে পূজাকে কেন্দ্র করে পূর্ব থেকে একটি বিরোধ চলছিল। পরিবারের সদস্যরা প্রাথমিকভাবে কয়েকজনকে সন্দেহ করছেন। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য জানায়নি পুলিশ।

এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে নিহত রীতা রানী মজুমদারের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।