বিবাহ বিচ্ছেদ-হতাশা থেকে আত্মহত্যা করেন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা

Divorce-Despair leads to suicide
অনলাইন ডেস্ক ০৩ জুন ২০২৬ ০৬:৪৯ অপরাহ্ন জাতীয়
অনলাইন ডেস্ক ০৩ জুন ২০২৬ ০৬:৪৯ অপরাহ্ন
বিবাহ বিচ্ছেদ-হতাশা থেকে আত্মহত্যা করেন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা
মুগদার বাসা থেকে তানভীর হোসাইন শুভর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ | ছবি- সংগৃহীত

১৩ বছর আগে হয়েছিল ডিভোর্স, ছিলো ডিপ্রেশন এরপর মুগদার বাসা থেকে অর্ধ গলিত ঝুলন্ত অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক (এডি) তানভীর হোসাইন শুভর (৪৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (০২ জুন) রাতে রাজধানীর মুগদার বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।

নিহত তানভীর হোসাইন শুভর বন্ধু আজাদ জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে জানতে পারি সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সবার সঙ্গে তার তেমন যোগাযোগ ছিল না কথাও কম বলতো। বিয়ের পর তার স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্স হওয়ায় সবার সঙ্গে যোগাযোগ কম করতো। কি কারণে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে, সে বিষয়টি বলতে পারছি না।

নিহতের ছোট ভাই শৈবাল জানায়, আমার ভাই বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক ছিলেন। আমরা ছিলাম তিন ভাই, সে ছিল মেজো। ২০১২ সালে সে বিয়ে করে। বিয়ের তিন মাসের মাথায় তাদের ডিভোর্স হয়। এরপর ভাই আর বিয়ে করেনি। ঈদের আগের দিন আমি ছিলাম সিলেটে, নরমালি সে আমাকে ফোন করে খোঁজখবর নেয়। তখন মনে হয়নি সে কোনো চিন্তা বা ডিপ্রেশনে আছে। বেশি সময় কথা বলেনি। মুগদার ওই বাসায় সে একাই থাকতো। সে ঈদে বাড়িতে যেত না। ঢাকায় এসে একা একাই ঈদ করতো। কি কারণে কেন সে কাজটি করেছে, সে বিষয়ে আমরা কিছুই বলতে পারছি না।

নিহতের বাবা তবারক হোসেন জানান, আমার সঙ্গে তার কথা কম হতো ঈদের আগের দিন তার সঙ্গে কথা হয়েছে, ঈদের দিনও তার সঙ্গে নরমালি কথা হয়েছে। আমরা থাকতাম সেগুনবাগিচা এলাকায়। সে মুগদা এলাকায় একাই বাসা নিয়ে থাকতো। কীভাবে কি হলো কিছুই বুঝলাম না।

বাড়ির মালিকের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ঈদের দিন শেষবারের মতো তানভীর হোসাইনকে দেখেছিলেন বাড়ির মালিক। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার তার ঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে বাড়ির লোকজন পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে একটি কক্ষে গলায় ফাঁস লাগানো অর্ধ গলিত অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পায়।

ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের সবুজবাগ জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জাহিদ হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, প্রতিবেশীদের মোবাইল ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে একটি কক্ষ থেকে তানভীর হোসেইন শুভর মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

সুরতহাল প্রতিবেদনে মুগদা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বোরহান উদ্দিন ভূঁইয়া উল্লেখ করেন, দুই চোখ গলিত অবস্থায় বের হয়ে ছিলো। জিহ্বা অর্ধেক বাহির করা। মুখ কান নাক পচে পোকা ধরে গেছে। গলায় লাল হলুদ গামছা পেঁচানো অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়। তার সমস্ত শরীরের পচন ধরে গেছে।

মৃত্যুর কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে তিনি লেখেন, মানসিক অবসাদ ও ডিপ্রেশনে সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে।

এস আই বোরহান উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, তার মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে বিকেলে হস্তান্তর করা হয়। কেন এবং কি কারণে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এ বিষয়টি জানার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।


এসআইএল/বিবিএন