দিনাজপুরে জমে উঠেছে লিচুর বাজার

Litchi market
অনলাইন ডেস্ক ০৩ জুন ২০২৬ ০৮:১৩ অপরাহ্ন সারা বাংলা
অনলাইন ডেস্ক ০৩ জুন ২০২৬ ০৮:১৩ অপরাহ্ন
দিনাজপুরে জমে উঠেছে লিচুর বাজার
দেশের ‘লিচুর রাজধানী’ খ্যাত দিনাজপুরে জমে উঠেছে লিচুর বেচাকেনা।--সংগৃহীত ছবি

দেশের ‘লিচুর রাজধানী’ খ্যাত দিনাজপুরে জমে উঠেছে লিচুর বেচাকেনা। বাগান থেকে বাজার সর্বত্র বেদানা, মাদ্রাজি ও চায়না-৩ জাতের লিচুর বেচাকেনা চলছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা ছুটে আসছেন এই জেলায়। ভালো ফলন ও সন্তোষজনক দামে চাষিরা খুশি হলেও পাইকাররা বলছেন- অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার দাম কম।

দিনাজপুরের কালিতলা, পুলহাট, সিকদারহাট, মহব্বতপুর, উলিপুর, মাসিমপুর ও আউলিয়াপুর এলাকায় লিচুর পাইকারি ও খুচরা বাজার জমে উঠেছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকাররা বাগান ও আড়ত থেকে লিচু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন বাগানে নারী-পুরুষ শ্রমিকরা গাছ থেকে লিচু পেড়ে আঁটি তৈরি করছেন এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানোর জন্য প্যাকেটজাত করছেন।

দেশের সবচেয়ে বড় লিচুর বাজার হিসেবে পরিচিত দিনাজপুর শহরের কালিতলা নিউ মার্কেটে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বেচাকেনা চলছে। বাজারে মাদ্রাজি, বেদানা ও বোম্বাই জাতের লিচু বেশি দেখা গেছে। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় সড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে লিচুবোঝাই ভ্যান ও ইজিবাইক।

ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাইকারিতে মাদ্রাজি লিচুর হাজার বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকায়। বেদানার হাজার সাড়ে তিন হাজার থেকে ছয় হাজার, চায়না-৩ সাত থেকে আট হাজার এবং বোম্বাই দুই হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

সদর উপজেলার সিকদার গ্রামের বাগান মালিক আকরাম আলী বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। বাজার দরও সন্তোষজনক। অনেক লিচু বাগান থেকেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

মহব্বতপুর এলাকার লিচু চাষি আব্দুল হান্নান বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা সরাসরি বাগানে এসে লিচু কিনছেন। যত্নসহকারে সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাচ্ছি।

ক্রেতা মুশফিকুর রহমান জানান, বেদানা ৫০০ টাকা ও চায়না-৩ লিচু ৮০০ টাকা শতক হিসেবে কিনেছেন। গত বছর যথাক্রমে ৮০০ ও ১২০০ টাকায় কিনেছিলেন। এবার দাম কম পেয়ে তিনি সন্তুষ্ট।

অপর ক্রেতা সাজেদুর রহমান বলেন, প্রতি বছর এই বাজার থেকে ঢাকায় লিচু পাঠাই। গত বছর দাম বেশি ছিল, এবার কম।

লিচুর আড়তদার আব্দুল্লাহ বলেন, দিনাজপুরে উৎপাদিত প্রায় ৮০ শতাংশ লিচু দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হয়, মাত্র ২০ শতাংশ স্থানীয় বাজারে বিক্রি হয়।

ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম জানান, বাগান থেকে বোম্বাই লিচু প্রতি হাজার দুই হাজার ৪০০ টাকায় কিনে এনে দুই হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করছেন। আমদানি বেশি হওয়ায় আজ দাম কমেছে বলে তিনি জানান।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় পাঁচ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে পাঁচ হাজার ৪১৮টি লিচু বাগান আছে। এর মধ্যে বোম্বাই তিন হাজার ১৭০ হেক্টর, মাদ্রাজি এক হাজার ১৬৬ হেক্টর, চায়না-৩ ৮০২ হেক্টর, বেদানা ২৯৫ দশমিক ৫ হেক্টর, কাঁঠালি ৫৬ হেক্টর ও মোজাফফরপুরী এক হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। বসতবাড়ি ও বাগানে প্রায় সাত লাখ লিচুগাছ রয়েছে। এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৩১ হাজার ৭৯০ মেট্রিক টন।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, প্রাকৃতিক কারণে এবার ফলন কিছুটা কম হলেও মানসম্মত হয়েছে। আকার, আকৃতি ও রং ভালো। মৌসুমের শুরুতে দাম কিছুটা কম থাকলেও বাজার বাড়ছে। চাষিরা ভালো দাম পাবেন বলে আশা করছি।