চ্যাটজিপিটিকে সব বলছেন, সতর্ক না হলেই বিপদ
প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। কাজের সহকারী থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত আলাপচারিতা সব ক্ষেত্রেই জনপ্রিয়তা বাড়ছে চ্যাটবটের। তবে এতদিন একটি বড় সীমাবদ্ধতা ছিল, নতুন চ্যাট শুরু হলেই আগের আলোচনার বেশিরভাগ তথ্য হারিয়ে যেত। এবার সেই সমস্যার সমাধানে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে ওপেনএআই।
সংস্থাটি এমন একটি উন্নত মেমরি সিস্টেম নিয়ে কাজ করছে, যার মাধ্যমে চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীর সঙ্গে হওয়া বিভিন্ন কথোপকথনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দীর্ঘ সময় ধরে মনে রাখতে পারবে। এর ফলে প্রতিবার নতুন করে একই তথ্য জানাতে হবে না। ব্যবহারকারীর আগ্রহ, পছন্দ বা প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতের উত্তর আরও ব্যক্তিগত ও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবে।
এই মেমরি ব্যবস্থার বিশেষত্ব হলো, কথোপকথন শেষ হওয়ার পরও সিস্টেমটি প্রয়োজনীয় তথ্য বিশ্লেষণ করে সংরক্ষণ করতে পারে। ধরুন, কোনো ব্যবহারকারী নির্দিষ্ট ধরনের স্মার্টফোন পছন্দ করেন বা কোনো বিশেষ বিষয়ে নিয়মিত আলোচনা করেন এসব তথ্য ভবিষ্যতের কথোপকথনে কাজে লাগতে পারে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের স্মার্ট মেমরি ব্যবস্থার ফলে তথ্য মনে রাখার ক্ষেত্রে এআইয়ের দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে ওপেনএআই জানিয়েছে, ব্যবহারকারীরা চাইলে মেমরি ফিচার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। কোন তথ্য সংরক্ষণ করা হবে বা হবে না, সে বিষয়ে ব্যবহারকারীর হাতে পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ থাকবে।
অন্যদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে আরও বাস্তব জীবনের কাজে যুক্ত করার উদ্যোগও চলছে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থাপনায় চ্যাটজিপিটিকে ব্যবহার করার নতুন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। পরীক্ষামূলকভাবে কিছু গ্রাহকের জন্য এমন সুবিধা আনা হয়েছে, যেখানে এআই ব্যবহারকারীর আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্যয়, সঞ্চয় এবং বাজেট ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত পরামর্শ দিতে পারবে।
এই লক্ষ্য পূরণে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে একজন ব্যবহারকারী তার আয়-ব্যয়ের হিসাব, সঞ্চয়ের পরিকল্পনা কিংবা আর্থিক লক্ষ্য নির্ধারণে আরও ব্যক্তিগত সহায়তা পেতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত মেমরি এবং আর্থিক বিশ্লেষণ সুবিধা যুক্ত হলে চ্যাটজিপিটি শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া একটি চ্যাটবট হিসেবেই নয়, বরং ব্যক্তিগত ডিজিটাল সহকারী হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে এর খারাপ দিকও রয়েছে। আপনার ব্যক্তিগত সব তথ্য মনে রাখবে এবং সেই তথ্য অন্য কেউ জেনে গেলে বিপদে পড়তে পারেন।
সূত্র: দ্য ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেস