শাকিরার মঞ্চ কাঁপানো পারফরম্যান্স, ঐতিহ্য ও সুরের মূর্ছনায় শুরু ২০২৬ বিশ্বকাপ
সঙ্গীত, ঐতিহ্য আর আধুনিকতার এক অপূর্ব মেলবন্ধনে পর্দা উঠল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল মহোৎসবের। মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আসতেকা স্টেডিয়ামে বর্ণিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ।
যৌথভাবে মেক্সিকো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায় আয়োজিত এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে রেকর্ড ৪৮টি দল। ১৬টি স্বাগতিক শহরে মোট ১০৪টি ম্যাচের এই ফুটবল যুদ্ধ চলবে আগামী ১৯ জুলাই পর্যন্ত।
বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ৪৩ মিনিটে শুরু হওয়া ১৫ মিনিটের এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু চোখধাঁধানো অনুষ্ঠান স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজারো দর্শকসহ পুরো বিশ্বকে মুগ্ধ করে। মাঠের ঠিক মাঝখানে বিশ্বকাপের ট্রফির একটি বিশাল রেপ্লিকা এবং শতাধিক নৃত্যশিল্পীর অনবদ্য পরিবেশনা পুরো স্টেডিয়ামে তৈরি করে এক উৎসবমুখর আবহ।
অনুষ্ঠানের সূচনা করেন মেক্সিকান গায়িকা লিলা ডাউনস। অ্যাজটেক ঐতিহ্য ও মেক্সিকান সংস্কৃতির আবহে স্প্যানিশ ও ইংরেজি ভাষায় তিনি বিশ্ববাসীকে স্বাগত জানান।
এরপর ভেনেজুয়েলার জনপ্রিয় গায়ক ড্যানি ওশান বিশ্বকাপের অফিসিয়াল অ্যালবামের গান ‘পার্তিদাসো’ পরিবেশন করেন, যেখানে তার সাথে অংশ নেয় মেক্সিকোর ঐতিহ্যবাহী নৃত্যদল। মেক্সিকান পপ তারকা বেলিন্ডা এবং জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘লস অ্যাঞ্জেলেস আজুলেস’ যৌথভাবে ‘পোর এয়া’ গানটি গেয়ে দর্শকদের উচ্ছ্বসিত করে তোলেন। কলম্বিয়ান তারকা জে বালভিন এবং রায়ান কাস্ত্রো তাদের জনপ্রিয় গানগুলোর মেডলি পরিবেশন করে গ্যালারিতে উন্মাদনা বাড়িয়ে দেন। রক সংগীতপ্রেমীদের জন্য বিশেষ চমক হিসেবে মেক্সিকান পপ-রক ব্যান্ড ‘মানা’ তাদের কালজয়ী গান ‘ওয়ে মি আমোর’ পরিবেশন করে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিলেন বিশ্বখ্যাত পপসম্রাজ্ঞী শাকিরা। চিরচেনা ল্যাটিন সুর আর চেনা নাচের ঝলক নিয়ে তিনি যখন মঞ্চে আসেন, তখন পুরো স্টেডিয়াম করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে। এবারের বিশ্বকাপের অফিসিয়াল সংগীত ‘দাই দাই’ (যা ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ডের প্রচারণাকেও সমর্থন করছে) গানটি নিয়ে শাকিরার সাথে মঞ্চে যোগ দেন নাইজেরিয়ান তারকা বার্না বয় এবং গ্লোবাল মিউজিক স্টার টাইলা। নিখুঁত কোরিওগ্রাফি আর প্রাণবন্ত পারফরম্যান্সের শেষ মুহূর্তে যখন তারা একসঙ্গে গেয়ে ওঠেন, “দালে, আলে, লেটস গো!”, তখন গ্যালারির উল্লাস সব সীমা ছাড়িয়ে যায়। শাকিরার পারফরম্যান্স শেষ হতেই মেক্সিকোর পতাকার রঙের সাথে মিল রেখে লাল, সাদা ও সবুজ ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় মেক্সিকো সিটির আকাশ।
অনুষ্ঠানের ফাঁকে বিশ্বজুড়ে আলোচিত ভাইরাল চরিত্র 'লাবুবু'র আদলে সাজানো ফুটবল জার্সি পরিহিত দুটি মাসকট বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে মাঠে হাজির হয়ে দর্শকদের বাড়তি বিনোদন দেয়। প্রথম ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে মেক্সিকোর জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন দেশটির কিংবদন্তি মারিয়াচি শিল্পী আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ।
২০১০ সালের বিশ্বকাপের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে এস্তাদিও আসতেকা স্টেডিয়াম প্রথম ভেন্যু হিসেবে তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপে (১৯৭০, ১৯৮৬ এবং ২০২৬) ম্যাচ আয়োজনের এক অনন্য ও ঐতিহাসিক কীর্তি গড়ল।
এবারের বিশ্বকাপে ফিফা দর্শকদের জন্য সম্পূর্ণ নতুন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে। প্রতিটি ম্যাচের আগেই থাকবে বিশেষ প্রি-ম্যাচ সেরেমনি, ফুল-স্কোয়াড ওয়াকআউট এবং আকর্ষণীয় ভিজ্যুয়াল ডিসপ্লে। আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে এই ফুটবল মহাযজ্ঞের। আর বিশ্বকাপ ইতিহাসে এবারই প্রথম ফাইনাল ম্যাচে দেখা যাবে সুপার বোল-স্টাইলের জমকালো 'হাফটাইম শো'।