ব্রাজিলের হেক্সা মিশনের শুরুতে মরক্কো বাধা

Morocco blocks start of Brazil's HEXA mission
অনলাইন ডেস্ক ১৩ জুন ২০২৬ ০৭:৫৫ অপরাহ্ন বিশ্বকাপ আপডেট
অনলাইন ডেস্ক ১৩ জুন ২০২৬ ০৭:৫৫ অপরাহ্ন
ব্রাজিলের হেক্সা মিশনের শুরুতে মরক্কো বাধা
সংগৃহীত ছবি

২০২৫ সালের মে মাসে ইতিহাস রচিত হয়েছিল, যখন ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশন প্রথম বিদেশি কোচ হিসেবে কার্লো আনচেলত্তিকে নিয়োগ দিয়েছিল। ক্লাব পর্যায়ে তিন দশকের ট্রফি সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার শেষে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন এই ইতালিয়ান কোচ।

বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দেশ ব্রাজিল। অন্য যে কারও চেয়ে বেশি ম্যাচ (১১৪) খেলেছে, বেশি ম্যাচ (৭৪) জিতেছে এবং শিরোপারও (৫) সবচেয়ে বেশি। এমনকি ১৯৩০ সালের উদ্বোধনী আসর থেকে শুরু করে প্রত্যেক বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া একমাত্র দল তারা।

কিন্তু ২০০২ সালের পর থেকে এই মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি জেতা হয়নি ব্রাজিলের। তাদের এই খরা চলছে ২৪ বছর ধরে, ঠিক ১৯৭০ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যবর্তী সময়ের মতো। সেইবারও দুই যুগের খরা কাটিয়ে আমেরিকার মাটিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সেলেসাওরা।

৪৮ দলের বর্ধিত এই টুর্নামেন্টের টিকিট কাটতে ঘাম ছুটেছিল ব্রাজিলের। ১৮ ম্যাচে ৮ জয়, চার ড্র ও ছয় হারের পর পঞ্চম স্থানে থেকে কনমেবল অঞ্চলের ছয় দলের একটি হয়ে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার টিকিট কাটে।

বিশ্বকাপের শেষ বাছাই ম্যাচে তারা বলিভিয়ার কাছে ১-০ গোলে হেরে অঘটনের শিকার হয়েছিল। তারপর অক্টোবর থেকে জাপান (৩-২) ও ফ্রান্সের (২-১) কাছে হারের স্বাদ পায় তারা। তবে আনচেলত্তির দল শেষ তিন ম্যাচে ক্রোয়েশিয়া, পানামা ও মিসরের বিপক্ষে জিতেছে ১১-৪ গোলের ব্যবধানে।

ফিফার বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে ষষ্ঠ স্থানে ব্রাজিল। আগামীকাল তারা মুখোমুখি হবে সপ্তম স্থানে থাকা মরক্কোর। আফ্রিকানদের বিপক্ষে বরাবর ভালো অবস্থানে সেলেসাওরা। বিশ্বকাপে আট ম্যাচ খেলে সাতটি জিতেছে, একমাত্র হার ২০২২ সালের বিশ্বকাপে ক্যামেরুনের কাছে গ্রুপ পর্বে ১-০ গোলে। বিশ্বকাপ বেটিং সাইটগুলোর পূর্বাভাসে সি গ্রুপে শক্তিশালী ফেভারিট ধরা হচ্ছে সেলেসাওদের।

প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ওঠার চার বছর পর মরক্কো বিশ্বের শীর্ষ ফুটবল মঞ্চে সপ্তমবার অংশ নিচ্ছে। টুর্নামেন্টের অন্যতম প্রধান ডার্ক হর্স হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে তারা। গতবারের মতো এবারও তাদের কাছ থেকে চমকের প্রত্যাশা বাড়াবাড়ি নয়।

মরক্কোর প্রথম তিনটি বিশ্বকাপ ছিল ১৯৭০ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যে, ওইবার এই আসরের দুই আয়োজকের মাটিতে খেলেছিল তারা। ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালে মেক্সিকোতে, ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে। অভিষেকে গ্রুপ পর্বে বিদায় নিয়েছিল তারা। ১৯৮৬ সালে শেষ ষোলো পর্যন্ত খেলে স্মরণীয় করে রেখেছিল আসর। আর আমেরিকায় তিন ম্যাচেই হারের হতাশা নিয়ে বিদায় নেয় তারা।

সম্প্রতি অ্যাটলাস লায়ন্স শক্তিশালী ফুটবল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৩ সালের শুরু থেকে ৪৫ ম্যাচ খেলে ৩৩ জয়, ১০ ড্র ও মাত্র দুটি হার। বর্তমানে র‌্যাঙ্কিংয়ে নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম ও জার্মানির মতো দলের ওপরে।

মরক্কোর এই অবিশ্বাস্য উত্থানের কৃতিত্ব দেওয়া যায় ওয়ালিদ রেগরারুইকে। তার দল সিএএফ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে আট ম্যাচের সবগুলো জিতেছে। তারপর এই বছরের শুরুতে বিতর্কিতভাবে আফ্রিকার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। সেনেগাল ফাইনালে মাঠ ছাড়ার কারণে শিরোপা তাদেরকে দিয়েছে মহাদেশের শীর্ষ ফুটবল সংস্থা।

কিন্তু রেগরাগুই বিশ্বকাপ শুরুর ১০০ দিনেরও কম সময় আগে পদত্যাগ করেন। সাবেক অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কোচ মোহাম্মদ উয়াভি তারপর দায়িত্ব নেন, সিনিয়র দলকে পাঁচ ম্যাচে তিনটি জয় ও দুটো ড্র এনে দেন। সবশেষ নরওয়ের সঙ্গে ১-১ গোলের আশা জাগানিয়া ড্র করেছে তারা।

প্রথমবারের মতো টানা বিশ্বকাপে খেলতে নামছে তারা। ব্রাজিলের বিপক্ষে সবশেষ পরিসংখ্যান তাদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে আরও ভালোভাবে। দুই দলের দেখায় তিন ম্যাচের দুটি হারলেও ২০২৩ সালের মার্চে শেষ প্রীতি ম্যাচে ২-১ গোলে ব্রাজিলকে পরাজিত করে আফ্রিকানরা।


এসআইএল/বিবিএন