কারাগারে পাঠানো হল শিবির নেতা জিসানকে

Camp leader Jisan
অনলাইন ডেস্ক ১৬ জুন ২০২৬ ০৭:১৭ অপরাহ্ন সারা বাংলা
অনলাইন ডেস্ক ১৬ জুন ২০২৬ ০৭:১৭ অপরাহ্ন
কারাগারে পাঠানো হল শিবির নেতা জিসানকে
--সংগৃহীত ছবি

ধর্ষণ ও ভ্রুণ নষ্টের অভিযোগে করা মামলায় অভিযুক্ত ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক (সদ্য বহিষ্কৃত) জিসান মিয়া প্রধানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ৩-এর বিচারক তৈয়ব উদ্দিন আহমেদ তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কুমিল্লার কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মামুনুর রিশদ ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তার রিমাণ্ডের জন্য আবেদন করা হয়নি বলে জানা গেছে।

এদিন বিকেল সাড়ে ৫টায় জেলা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কড়া পাহারায় তাকে তড়িঘড়ি করে চিপ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক তৈয়ব উদ্দিন আহমেদের আদালতে তোলা হয়। এসময় তার মাথায় হেলমেট ও পরনে পুলিশ ভেস্ট ছিল। পরে নামানোর সময়ও তাকে তড়িঘড়ি করে প্রিজন ভ্যানে উঠিয়ে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয় জিসানকে। পরে দীর্ঘ সময় প্রস্তুতির পর তাকে আদালতে তোলা হয়।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত থেকে নিখোঁজ হন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান মিয়া প্রধান। পরিবারের পক্ষ থেকে তিনি নিখোঁজ হন বলে ডায়েরি করা হয়। শুক্রবার (১৩ জুন) রাত ৮-৯টার দিকে জেলার লাকসাম জংশন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানান, ২৫ বছর বয়সী এক বিধবা নারী বাদী হয়ে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ওই নারী উল্লেখ করেন, গত ৫-৬ মাস আগে শিবির নেতা জিসানের সঙ্গে ওই নারীর সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয়। একপর্যায়ে দুজন মোবাইলে কথা বলতে বলতে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। গত ২০ মে শিবির নেতা জিসান তার দাউদকান্দির ভাড়া বাসায় নিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। পরে ওই নারী গর্ভবতী হয়ে পড়লে জিসান বাচ্চা নষ্ট করার জন্য চাপ দেন। জিসান তার চাচাতো ভাই সজীবকে দিয়ে বাচ্চা নষ্ট করার ওষুধ পাঠান। পরে ওই নারীর রক্তক্ষরণ শুরু হলে তা পুনরায় সজীবকে জানান তিনি। জিসান সজীবকে দিয়ে পুনরায় ওষুধ পাঠান। পরে ওই নারী সুস্থ হয়ে উঠে জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।

গত শুক্রবার (১২ জুন) উভয়ের বিয়ের কথা ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে সেই বিয়ে থেকে বিরত থাকতেই নিখোঁজের নাটক সাজান শিবির নেতা জিসান। শনিবার (১৩ জুন) সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। এ ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। গত রোববার (১৪ জুন) জিসানের শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করতে চার সদস্য বিশিষ্ট মেডিকেল বোর্ড গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

মেডিকেল বোর্ড তাকে সুস্থ বলে প্রতিবেদন জমা দিলে মঙ্গলবার ছাড়পত্র দেওয়া হয়। পরে বিকেলে জিসানকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়।