শিশু আয়াত হত্যা : আসামি আবিরের মৃত্যুদণ্ড

Death sentence for accused Abir
অনলাইন ডেস্ক ১৭ জুন ২০২৬ ০১:৪১ অপরাহ্ন শীর্ষ খবর
অনলাইন ডেস্ক ১৭ জুন ২০২৬ ০১:৪১ অপরাহ্ন
শিশু আয়াত হত্যা : আসামি আবিরের মৃত্যুদণ্ড
--সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামে ৫ বছরের শিশু আয়াতকে হত্যার পর মরদেহ ছয় টুকরো করার মামলায় আসামি মো. আবীরকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 

বুধবার (১৭ জুন) চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এই রায় দেন।

এসময় আদালতে আসামি আবির আদালতে উপস্থিত ছিলেন। 

চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, আসামি আবীর আলী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, সুরতহাল রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, আলামত উদ্ধার এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি পর্যালোচনায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হ‌ওয়ায় আসামির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের রায় আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে ১ লাখ অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

তিনি জানান, আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন, এই ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিত, নিষ্ঠুর নৃশংস, নির্মম ও সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী ক্রাইম পেট্রোল থেকে উদ্বুদ্ধ হয়েছে।’

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি জালাল উদ্দিন জানান, মামলায় মোট ৩৩ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায় এই দিয়েছেন।

পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার বন্দরটিলা এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার মেয়ে আলিনা ইসলাম আয়াত ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় ইপিজেড থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে পরিবারের আবেদনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ছায়া তদন্ত শুরু করে।

তদন্তে উঠে আসে, আয়াতকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিলেন তাদের বাসার ভাড়াটে মো. আবির। ২৫ নভেম্বর তাকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন।

পিবিআই সূত্র জানায়, মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে আয়াতকে অপহরণ করা হয়েছিল। পরে পরিকল্পনা ভেস্তে গেলে তাকে হত্যা করা হয়। পরে তার খণ্ডিত মরদেহ সাগরপাড় ও খালের পাশে ফেলে দেওয়া হয়।

তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর পিবিআইয়ের তৎকালীন পরিদর্শক মনোজ দে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে মো. আবির ও তার ১৭ বছর বয়সী এক বন্ধুকে আসামি করা হয়। তিনি কিশোর হওয়ায় আলাদাভাবে শিশু আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।