রাজশাহীতে আধুনিক ম্যাংগো এক্সপোর্ট জোন ও বরেন্দ্র অঞ্চলের জন্য বিশেষ প্রকল্পের দাবি এমপি মিলনের
গত ১১ জুন ২০২৬২৭ অর্থবছরের জন্য জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করা হয়েছে। এবারের বাজেটের আকার হয়েছে নয় লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এই বাজেট নিয়ে জাতীয় সংসদে চলছে আলোচনা । জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন বাজেটের প্রশংসা করার পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করেছেন। তিনি রাজশাহীতে একটি আধুনিক 'ম্যাংগো এক্সপোর্ট জোন' এবং খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলের জন্য 'নর্দান গ্রোথ রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম' গ্রহণের জোর দাবি জানান।
বৈশ্বিক অস্থিরতার মাঝেও জনমুখী ও ভারসাম্যপূর্ণ বাজেট উল্লেখ করে সংসদ সদস্য তাঁর বক্তব্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে সময়োপযোগী, জনমুখী ও উন্নয়নবান্ধব হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি উল্লেখ করেন বৈশ্বিক অর্থনীতির চলমান অনিশ্চয়তা, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের অস্থিতিশীল বাজারের মধ্যেও এই বাজেট একটি ভারসাম্যপূর্ণ রূপরেখা। বাজেটটিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উন্নয়ন ব্যয় না কমিয়ে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ভিত্তি ধরে রাখার যে চেষ্টা করা হয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
বক্তব্যে তিনি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও কৃষির গুরুত্ব বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) যোগাযোগ, পানি সম্পদ, কৃষি, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, প্রান্তিক অঞ্চল যেমন—উত্তরাঞ্চল, চরাঞ্চল, হাওর ও উপকূলীয় এলাকায় উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়ার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা দেশের সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন (Balanced Regional Development) নিশ্চিত করবে।
রাজশাহীকে দেশের 'খাদ্য ও ফলের রাজধানী' উল্লেখ করে তিনি কৃষিকে শুধুমাত্র একটি উৎপাদন খাত হিসেবে নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানান।
আধুনিক ম্যাংগো এক্সপোর্ট জোন ও কার্গো সুবিধা দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, রাজশাহীর বিখ্যাত আমকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে তিনি সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট কিছু দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজশাহীতে একটি আধুনিক "ম্যাংগো এক্সপোর্ট জোন" প্রতিষ্ঠা করা।
আম রপ্তানির জন্য ভেপার হিট ট্রিটমেন্ট (Vapor Heat Treatment), হট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট (Hot Water Treatment) এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্যাকেজিং সুবিধা সম্প্রসারণ করা।
তিনি আরো দাবি করেন, শাহ মখদুম বিমানবন্দরকে কৃষিপণ্য রপ্তানির উপযোগী কার্গো সুবিধার আওতায় এনে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হিসেবে বিবেচনা করা। আমভিত্তিক কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্রদান করা।
জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বরেন্দ্র অঞ্চলের জন্য প্রস্তাবনা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বরেন্দ্র অঞ্চলের ভয়াবহ খরা ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাওয়ার বিষয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এই সংকট সমাধানে তিনি
উত্তরাঞ্চলের খরা মোকাবিলায় একটি **'নর্দান গ্রোথ রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম'** (Northern Growth Resilience Program) গ্রহণ করা,
একটি সমন্বিত 'বরেন্দ্র পানি নিরাপত্তা কর্মসূচি' চালু করা, যার অধীনে নদী ও খাল পুনর্খনন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং আধুনিক সেচ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ করা, পুনর্ভবা, পদ্মা ও মহানন্দা নদীর মতো ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধিতে বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করা এবং শিল্প ও অবকাঠামো উন্নয়নের প্রস্তাবনা দেন তিনি।
নির্ধারিত সময়ের পর স্পিকারের নিকট থেকে অতিরিক্ত এক মিনিট সময় নিয়ে তিনি রাজশাহীর অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিতে আরও কিছু দাবি জানান। এরমধ্যে রয়েছে
রাজশাহীতে কৃষিভিত্তিক শিল্প পার্ক প্রতিষ্ঠা এবং সংরক্ষণ ও গুদামজাত সুবিধা সম্প্রসারণ করা, রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আরও আধুনিকায়ন , ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) উদ্যোক্তাদের জন্য স্বল্প সুদে অর্থায়নের সুযোগ বৃদ্ধি করা।
শেষে সংসদ সদস্য আশা প্রকাশ করেন, এই প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়িত হলে রাজশাহীর কৃষক থেকে শুরু করে কুড়িগ্রাম, ভোলাহাট ও সুনামগঞ্জের প্রান্তিক মানুষ সমানভাবে উন্নয়নের সুফল ভোগ করবে এবং এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।