মাদকবিরোধী চারদিনের ক্যাম্পেইন শুরু

মাদকাসক্তদের ঘৃণা নয়, পুনর্বাসনের আহ্বান সেলিম উদ্দিনের

Mohammad Selim Uddin
অনলাইন ডেস্ক ২৭ জুন ২০২৬ ০৫:৫১ অপরাহ্ন রাজনীতি
অনলাইন ডেস্ক ২৭ জুন ২০২৬ ০৫:৫১ অপরাহ্ন
মাদকাসক্তদের ঘৃণা নয়, পুনর্বাসনের আহ্বান সেলিম উদ্দিনের
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির ও ডিএনসিসির মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।--সংগৃহীত ছবি

মাদকাসক্তদের ঘৃণা না করে সরকারিভাবে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির ও ডিএনসিসির মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

তিনি বলেন, মাদক নির্মূলকে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং সীমান্তে কঠোর নজরদারির মাধ্যমে মাদক চোরাচালান বন্ধ করতে হবে।

শনিবার (২৭ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর মিরপুর শাহ আলী মাজার এলাকায় জামায়াত ঢাকা মহানগর উত্তরের চারদিনব্যাপী মাদকবিরোধী গণসচেতনতামূলক কর্মসূচির প্রথম দিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সেলিম উদ্দিন বলেন, মাদক তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। একটি ধর্মপ্রাণ দেশের সমাজ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের নেশাকে প্রশ্রয় দেওয়া যায় না।

তিনি বলেন, তরুণদের নৈতিক শিক্ষার অভাব এবং অপসংস্কৃতির বিস্তারের কারণে অপরাধ বাড়ছে। কুরআনের ধর্মীয় শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হলে মাদক ও বিভিন্ন অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় অনেক অপ্রয়োজনীয় বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলেও নৈতিক শিক্ষাকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। পরিবার থেকেই সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

সেলিম উদ্দিন আরও বলেন, সিগারেটই মাদকের প্রবেশদ্বার। নিকোটিনের কারণে ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগের সৃষ্টি হয়। তাই ধূমপান রোধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, খেলাধুলার মাঠ দখল হয়ে যাওয়ায় তরুণরা সুস্থ বিনোদন ও খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এসব দখলমুক্ত করে তরুণদের জন্য ক্রীড়া ও বিনোদনের পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

মাদকাসক্তদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের ঘৃণা নয়, বন্ধু হিসেবে পাশে দাঁড়াতে হবে। সঠিক চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে হবে। আর একটি মানবসম্পদকেও নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের কোনো ব্যক্তি বা মহল যদি মাদক কারবারে জড়িত থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সীমান্তে শক্তিশালী নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে মাদকের চালান অনেকাংশে কমে আসবে।

তরুণদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে সেলিম উদ্দিন বলেন, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা গড়ে তুলে তাদের হাতে রিমোট জবের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে, যাতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাজ দেশেই বসে করা সম্ভব হয় এবং যুবসমাজ ইতিবাচক কাজে সম্পৃক্ত থাকে।

তিনি দাবি করেন, জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা মাদক, চাঁদাবাজি ও ইভটিজিংয়ের সঙ্গে জড়িত নয়। এর বড় কারণ তার দল ইসলামী নৈতিকতায় বিশ্বাসী।

অনুষ্ঠানে তিনি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে মাদকবিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়ে একটি সুস্থ, নৈতিক ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

স্থানীয় ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ডা. মঈন উদ্দিনের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম, সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, ফখরুদ্দিন মানিক ও ইয়াসিন আরাফাতসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।