বন্যার পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু, প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি

Nearly three lakh people are stranded
অনলাইন ডেস্ক ১০ জুলাই ২০২৬ ০৩:৫৪ অপরাহ্ন সারা বাংলা
অনলাইন ডেস্ক ১০ জুলাই ২০২৬ ০৩:৫৪ অপরাহ্ন
বন্যার পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু, প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি
--সংগৃহীত ছবি

কক্সবাজারে বন্যার পানিতে ডুবে চকরিয়া ও মাতামুহুরীতে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চকরিয়া, নবগঠিত মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। টানা পাঁচ দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলে শতাধিক গ্রাম তলিয়ে যাওয়ায় এসব উপজেলায় প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। 

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে চকরিয়ায় কাকারা ইউনিয়নে মাইজ কাকারা এলাকায় পানিতে ডুবে প্রাণ হারায় স্থানীয় সোলতান আহমদের ২ বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ওয়াকিম।

একই দিন সকালে বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকার আরিফুল ইসলামের ছেলে পুষ্প (৩) এর মৃত্যু হয়।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার ( মাতামুহুরী উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত) বলেন, বন্যায় নিহত দুই শিশুর পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। নদীর পানি বেড়ে লোকালয়ে প্রবেশ করায় জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোর স্লুইস গেট খুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। 

মাতামুহুরী ও সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে থাকায় চকরিয়ার বরইতলী, বমুবিলছড়ি, কাকারা, লক্ষ্যারচর, চিরিঙ্গা ও হারবাং ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে রয়েছে।

এছাড়াও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা, ঢেমুশিয়া, কোনাখালী, বিএমচর ও সাহারবিল ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হয়েছে।

অন্যদিকে পেকুয়ার উজানটিয়া, মগনামা, বারবাকিয়া, মেহেরনামা এবং পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। সড়ক, কৃষিজমি ও চিংড়ির ঘের ডুবে যাওয়ায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম জানান,  বাঁকখালী নদীর পানি ৫ দশমিক ৮৮ মিটার এবং মাতামুহুরী নদীর পানি ৬ দশমিক ৫৪ মিটারে পৌঁছেছে, যা বিপৎসীমার চেয়ে বেশি। 

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান বলেন, জেলার ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। 

জরুরি প্রয়োজনে সাধারণ মানুষকে কন্ট্রোল রুমের ০১৮৭২৬১৫১৩২ এ সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক। 

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, গত পাঁচ দিনে জেলায় প্রায় ৭শ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।