মেসিও বিশ্বাস করতে পারছেন না কোলের সেই শিশুর বিপক্ষেই ফাইনাল খেলবেন
ফুটবল ইতিহাসে কিছু ছবি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিংবদন্তিতে পরিণত হয়। ২০০৮ সালে তোলা এমনই একটি ছবি ছিল — মাত্র আট মাসের শিশু লামিনে ইয়ামালকে কোলে নিয়ে গোসল করাচ্ছেন তরুণ লিওনেল মেসি। তখন কেউ কল্পনাও করতে পারেনি, ১৮ বছর পর সেই শিশুই বিশ্বকাপ ফাইনালে মেসির প্রতিপক্ষ হয়ে মাঠে নামবে।
কয়েক দিন আগে ডিএজেডএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই ছবির প্রসঙ্গ উঠতেই ইয়ামাল বলেছিলেন, ‘আমি একটু বড় হয়েছি, লিও-ও বড় হয়েছে। ফাইনালে লিওনেল মেসির বিপক্ষে খেলতে পারলে দারুণ হবে, কারণ ফিনালিসিমায় সেটা সম্ভব হয়নি।’
শুক্রবার ফিফার এক অনুষ্ঠানে একই ছবি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মেসিও আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানান, ‘সত্যি বলতে, ছবিটা অবিশ্বাস্য। এটাই তো জীবন। আমি যখন তাকে কোলে নিয়েছিলাম, সে ছিল একটা শিশু। আর এখন বিশ্বকাপ ফাইনালে তার বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি, এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। সে বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। আমি তার জন্য শুভকামনা জানাই, কারণ তার ভালো হওয়া বার্সেলোনার জন্যও ভালো। তবে আমরা চেষ্টা করবো যেন সে তার সেরা খেলাটা খেলতে না পারে।’
২০২৪ সালে ছবিটি নতুন করে ভাইরাল হয়, যখন মাত্র ১৬ বছর বয়সে বার্সেলোনা ও স্পেনের জার্সিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে আলোচনায় আসেন ইয়ামাল। তার বাবা মুনির নাসরাউই ইনস্টাগ্রামে ছবিটি পোস্ট করার পর সেটি বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।
ছবিটির আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ত জানান, এটি ছিল পুরোপুরি ভাগ্যের খেলা। বার্সেলোনার একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য রোকাফোন্দা এলাকার শিশুদের নিয়ে লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘ভাগ্যই তাদের একসঙ্গে এনেছিল। ছবিটি অন্য কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গেও হতে পারতো, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা হয়েছিল লিও মেসির সঙ্গে। সম্ভবত শিশুটির পরিবার সুযোগ পেলে রোনালদিনহো, জাভি বা ইনিয়েস্তার সঙ্গে ছবি তুলতে চাইতো।’
সেই মুহূর্তের স্মৃতি মনে করে মনফোর্ত আরও বলেন, ‘মেসির তখন বয়স ছিল ২০ বছর, আর ইয়ামালের মাত্র আট মাস। সম্ভবত জীবনে প্রথমবার কোনো শিশুকে কোলে নিয়েছিল মেসি। তাই দুজনের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই একটু অস্বস্তিকর কিন্তু দারুণ সুন্দর একটি মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল। এমন একটি ছবি অর্থ দিয়ে কখনো কেনা যায় না।’
এবার সেই ছবির দুই চরিত্রই ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকা। একদিকে বিশ্বকাপে আট গোল করে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলা অধিনায়ক লিওনেল মেসি, অন্যদিকে স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল।
একজন নিজের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করতে চান, আর অন্যজন স্বপ্ন দেখছেন ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের। ১৮ বছর আগের সেই ছবির গল্প এবার গিয়ে থামছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ — বিশ্বকাপ ফাইনালে।