গ্যাস সংকট কমাতে সরকারের নতুন উদ্যোগ

অনলাইন ডেস্ক ১৯ জুলাই ২০২৬ ১২:৫৩ অপরাহ্ন নির্বাচিত সংবাদ
অনলাইন ডেস্ক ১৯ জুলাই ২০২৬ ১২:৫৩ অপরাহ্ন
গ্যাস সংকট কমাতে সরকারের নতুন উদ্যোগ
গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকারকে প্রতি বছর প্রায় ৪০ থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকার এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে।

গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকারকে প্রতি বছর প্রায় ৪০ থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকার এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। এ সংকট কাটাতে জাতীয় গ্রিডে আরও তিন কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্য নিয়েছে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড। এজন্য নতুন তিনটি গ্যাস ও তেল কূপ খননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বর্তমানে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড ১৭টি কূপ থেকে প্রতিদিন ১৪ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করছে। এই সরবরাহ আরও বাড়াতে নতুন কূপ খননের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। 

দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ডুপিটিলা-১ কূপসহ নতুন কয়েকটি কূপ খননের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. ফারুক হোসেন বলেন, আটটি কূপের মধ্যে এখনো তিনটির খনন শেষ হয়নি। এগুলো হলো রশিদপুর-১৩, ডুপিটিলা-১ এবং কৈলাশটিলা-৯।

 তার আশা, এই তিনটি কূপের কাজ শেষ হলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন আরও তিন কোটি ঘনফুট গ্যাস যোগ করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদিন ১৪২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছে। বাকি তিনটি কূপের ড্রিলিং শেষ হলে আরও ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যোগ করা যাবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে এলএনজি আমদানি কমাতে হলে দেশীয় গ্যাস ও তেল অনুসন্ধানে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। স্থলভাগের পাশাপাশি সমুদ্রেও বড় ধরনের গ্যাস ও তেলের মজুত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দ্রুত চুক্তি করে অনুসন্ধান কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া   এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। না হলে গ্যাস আমদানি করতে গিয়ে সরকারকে প্রতি বছরই আরও টাকা ব্যয় করতে হবে। 

উল্লেখ, ১৯৫৫ সালে দেশের প্রথম প্রাকৃতিক গ্যাস আবিষ্কার করে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড। পেট্রোবাংলার অধীন রাষ্ট্রায়ত্ত এ প্রতিষ্ঠানটির গ্যাসকূপ থেকে পাওয়া জ্বালানি তেল দিয়ে বর্তমানে দেশের পেট্রোলের ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ, অকটেনের ১২ থেকে ১৫ শতাংশ, ডিজেলের ৯ শতাংশ এবং কেরোসিনের প্রায় ২ শতাংশ চাহিদা পূরণ হচ্ছে।