জাম্বু শসা চাষে তরুণের সাফল্য,কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে
নাটোরের লালপুর উপজেলার দুয়ারিয়া ইউনিয়নের টিটিয়া গ্রামের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা আশরাফুল ইসলাম ব্যতিক্রমী 'জাম্বু কিউ কাম্বার' বা জাম্বু শসা চাষ করে এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। এক থেকে পাঁচ কেজি ওজনের বিশাল আকৃতির এই শসা দেখতে প্রতিদিনই তার ক্ষেতে ভিড় করছেন স্থানীয় কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। অধিক ফলন, কম রোগবালাই এবং ভালো বাজারমূল্যের কারণে এ জাতের শসা এখন স্থানীয় কৃষকদের কাছেও আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
জানা যায়, চলতি বছরের শুরুতে একটি অ্যাগ্রো প্রতিষ্ঠান থেকে জাম্বু কিউ কাম্বার জাতের বীজ সংগ্রহ করেন আশরাফুল ইসলাম। পরে এপ্রিল মাসের শেষ দিকে ২০ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে এ শসার চাষ শুরু করেন। জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, পরিচর্যা ও সেচসহ মোট প্রায় ২০ হাজার টাকা ব্যয় হয় তার। ইতোমধ্যে সমপরিমাণ টাকার শসা বিক্রি করে তিনি উৎপাদন খরচ তুলে এনেছেন। এখন তিনি বাণিজ্যিকভাবে বীজ উৎপাদনের দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি গাছে ঝুলছে বড় বড় সবুজ শসা। কোনোটি এক কেজি, কোনোটি তিন কেজি, আবার কোনোটি পাঁচ কেজি পর্যন্ত ওজনের। আকারে অস্বাভাবিক বড় হওয়ায় অনেকেই কৌতূহল নিয়ে ক্ষেতে এসে শসা দেখছেন এবং ছবি তুলছেন।
তরুণ উদ্যোক্তা আশরাফুল ইসলাম বলেন, "নতুন কিছু করার ইচ্ছা থেকেই জাম্বু শসার চাষ শুরু করি। শুরুতে অনেকেই সন্দেহ করলেও এখন ফলন দেখে সবাই অবাক। পাঁচ কেজি ওজনের একটি শসা ২৫০ টাকায় বিক্রি করেছি। বাজারে চাহিদা ভালো থাকায় এখন বীজ উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। আশা করছি, এ মৌসুমে প্রায় এক লাখ টাকার বীজ বিক্রি করতে পারবো।"তিনি আরও জানান, দেশের বাজারে এই জাতের শসার বীজের দাম অনেক বেশি হওয়ায় বীজ উৎপাদন লাভজনক হতে পারে।
লালপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, জাম্বু কিউ কাম্বার একটি উন্নত দেশি জাতের শসা। এটি বছরের প্রায় সব সময়ই চাষ করা যায়। প্রতিটি গাছে সাধারণত ছয় থেকে আটটি শসা ধরে এবং প্রতিটির ওজন এক থেকে পাঁচ কেজি পর্যন্ত হয়। একটি গাছ থেকে প্রায় ১০ কেজি পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। গাছের জীবনকাল ১০৫ থেকে ১১০ দিন এবং রোগবালাইও তুলনামূলক কম।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এই শসা মালচিং পদ্ধতি কিংবা সরাসরি মাটিতে—উভয় পদ্ধতিতেই চাষ করা যায়। রাসায়নিক সারের ব্যবহারও তুলনামূলক কম হওয়ায় উৎপাদন খরচ কমে আসে এবং লাভের সম্ভাবনা বাড়ে।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল হাকিম বলেন,"এত বড় শসা আগে কখনও দেখিনি। ফলন ভালো, রোগও কম হয়। বাজারেও ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। আগামী মৌসুমে আমিও এই জাতের শসা চাষ করতে চাই।"
লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় বলেন,"লালপুর উপজেলায় প্রথমবারের মতো আশরাফুল ইসলাম বাণিজ্যিকভাবে জাম্বু কিউ কাম্বার শসার চাষ ও বীজ উৎপাদন করছেন। তার সফলতা অন্য কৃষকদেরও উদ্বুদ্ধ করছে। কৃষি বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও কৃষক এ চাষে এগিয়ে এলে এলাকার কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে।"
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, জলবায়ু উপযোগী নতুন জাতের ফসল চাষ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বীজ উৎপাদনের মতো উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। আশরাফুল ইসলামের এই সফল উদ্যোগ প্রমাণ করেছে, সঠিক পরিকল্পনা ও পরিশ্রম থাকলে কৃষিতেও নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যায়।