শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে রাবিতে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ বিলবোর্ড অপসারণ
শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রশাসন ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শিরোনামে প্রদর্শিত বিতর্কিত বিলবোর্ডটি সরিয়ে দিয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট)সকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিলবোর্ডটি অপসারণ করে নতুন বিলবোর্ড স্থাপন করে।
এর আগে, রোববার(২আগস্ট)বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোড এলাকায় টানানো ওই বিলবোর্ড ঘিরে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও বামপন্থী সংগঠনের নেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ‘নভো কালচার’ নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে বিলবোর্ডটি টানানো হয়েছিল। সংগঠনটির পরিচালক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার।
বিলবোর্ডে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মীর কাসেম আলী, মতিউর রহমান নিজামী, আব্দুল কাদের মোল্লা, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছবি স্থান পায়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষে বিভিন্ন মামলায় তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
রোববার দুপুরে বামপন্থী কয়েকজন নেতা ও শিক্ষার্থীদের একাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে বিলবোর্ড অপসারণের দাবি জানান। প্রক্টর বিকাল পর্যন্ত সময় নিলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিলবোর্ড অপসারণ না হওয়ায় আন্দোলনকারীরা প্রশাসন ভবনের সামনে তিন দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো ছিল— বিলবোর্ড অপসারণ, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় প্রকাশ করা।
পরে রাতে আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে আপত্তিকর ছবিগুলো মুছে ফেলা বা ঢেকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিলবোর্ডটি সরিয়ে নতুন বিলবোর্ড স্থাপন করে।
নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী সাদেক রহমান বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের ছবি মুছে ফেলা হয়েছে। আমাদের আন্দোলনের বিজয় হয়েছে। এই ক্যাম্পাসে কোনো রাজাকারের ছবি ঝুলতে পারে না।’
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, ‘১৯৭১ বাংলাদেশের একটি মৌলিক জাতীয় প্রশ্ন। ২৪-এর আয়োজনকে কেন্দ্র করে ৭১-এর ঘাতক-দালালদের স্বাভাবিক হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা রাষ্ট্রীয় চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’
আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আল শাহরিয়ার শুভ বলেন, ‘কয়েক দফা আলোচনার পর প্রশাসন আমাদের দাবি মেনে নিয়েছে। তাই আমরা আন্দোলন প্রত্যাহার করেছি।’
তিনি আরও বলেন, শহীদ শামসুজ্জোহার কবরের পাশে রাজাকারের ছবি টানানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ‘নভো-কালচার’ ব্যানারে চিহ্নিত রাজাকারদের ছবি দিয়ে তাদের অপরাধকে স্বাভাবিকীকরণের চেষ্টা করা হয়েছে, যা আমরা মেনে নেব না।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘পোস্টারটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করছিল। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার পর যেসব ছবি নিয়ে আপত্তি উঠেছে সেগুলো সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।