হাসিনাকে ফেরানোর ‘গোপন তৎপরতার’ অভিযোগ: রাবির ৪২ শিক্ষককে ঘিরে অনুসন্ধান কমিটি
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর ‘গোপন তৎপরতায়’ জড়িত থাকার অভিযোগে প্রকাশিত একটি অনলাইন প্রতিবেদনের সূত্র ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ৪২ শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পাঁচ সদস্যের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলামের নির্বাহী (অফিস) আদেশে এ কমিটি গঠন করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ।
সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম-২-কে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক মো. গোলাম ছাদিক, প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আমীরুল ইসলাম, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান এবং সদস্য-সচিব হিসেবে এগ্রোনমি অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের অধ্যাপক মো. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ।
ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর গোপন তৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগে যেসব শিক্ষকের নাম প্রকাশিত হয়েছে, তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে একজন সিন্ডিকেট সদস্যের নেতৃত্বে অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি আরও জানান, একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে ‘শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের গোপন তৎপরতা’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২ জন শিক্ষকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সেখানে কয়েকজনের নাম আংশিক বা ডাকনামে প্রকাশিত হওয়ায় প্রকৃত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করাই তদন্ত কমিটির অন্যতম দায়িত্ব। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হবে এবং বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনে অনেক শিক্ষকের পূর্ণাঙ্গ নামের পরিবর্তে আংশিক নাম বা ডাকনাম ব্যবহার করা হয়েছে। এ কারণে সঠিক ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পাঁচ সদস্যের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।