দুই বিলিয়ন ডলারে গেমিং ইউনিট বিক্রি করছে আলিবাবা
চীনের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি জায়ান্ট আলিবাবা গ্রুপ তাদের ব্যবসায়িক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের অংশ হিসেবে জনপ্রিয় গেম ডেভেলপার ইউনিট ‘লিংঝি গেমস’ (Lingxi Games) বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রাইভেট ইকুইটি ফার্ম ট্রাস্টার ক্যাপিটালের (Trustar Capital) সঙ্গে এই বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই বিশাল লেনদেনের আর্থিক মূল্য দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা তারও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মতো ভবিষ্যৎমুখী ও কৌশলগত খাতে আরও বেশি পুঁজি ও মনোযোগ বিনিয়োগ করতেই আলিবাবা তাদের এই অ-কৌশলগত সম্পদটি ছেড়ে দিচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) লিংঝি গেমসের কর্মীদের কাছে পাঠানো এক অভ্যন্তরীণ বার্তায় প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ঝাউ বিংশু এই মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কয়েক দফা সফল আলোচনার পর আলিবাবা তাদের হাতে থাকা লিংঝির শতভাগ শেয়ার ট্রাস্টার ক্যাপিটালের কাছে হস্তান্তরের ব্যাপারে একমত হয়েছে। তবে মালিকানা বদলে গেলেও স্টুডিওটির বর্তমান ব্যবস্থাপনা টিমই কোম্পানির দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করবে, যা স্টুডিওর ভবিষ্যৎ কাজের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে।
ট্রাস্টার ক্যাপিটাল, যা আগে সিআইটিআইসি ক্যাপিটাল নামে পরিচিত ছিল, এই গেম স্টুডিওটির পরবর্তী পর্যায়ের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় শিল্প সম্পদ ও ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা জোগান দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গুয়াংজুভিত্তিক লিংঝি গেমস মূলত তাদের জনপ্রিয় মাল্টিপ্লেয়ার গেম ‘থ্রি কিংডমস: স্ট্র্যাটেজি এডিশন’-এর জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। জাপানি গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কোয়েই টেকমোর সহযোগিতায় তৈরি করা এই গেমটি স্টুডিওটির অন্যতম সেরা সাফল্য হিসেবে বিবেচিত। গত বছরের শেষ দিকে লিংঝি গেমস বাহ্যিক তহবিল সংগ্রহের চেষ্টা করলেও চীনের অনলাইন গেমিং খাতের ওপর সরকারের প্রস্তাবিত কঠোর নীতিমালার কারণে সেই প্রক্রিয়া তখন থমকে গিয়েছিল। এছাড়া ২০২৪ সালের শুরুতে প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বেও বড় পরিবর্তন আসে। প্রতিষ্ঠাতা ঝান ঝংহুই বিদায় নেওয়ার পর ঝাউ বিংশু সিইও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
আলিবাবা বর্তমানে তাদের বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য থেকে তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলো সরিয়ে মূল ব্যবসায় মনোযোগ দিচ্ছে। এই বিক্রির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বড় অংকের মূলধন হাতে পাবে, যা তাদের এআই প্রযুক্তির দৌড়ে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে। তবে এই লেনদেনটি ঠিক কবে নাগাদ সম্পন্ন হবে বা এর জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোনো বিশেষ অনুমোদনের প্রয়োজন হবে কি না, সে সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।