স্থায়ী শিক্ষা ক্যাম্পাসের অপেক্ষায় ৭০০ শিশু, জমির আশ্বাস ভূমিমন্ত্রীর
একটি স্থায়ী ক্যাম্পাসের অভাবে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে রাজশাহীর প্রায় ৭০০ সুবিধাবঞ্চিত শিশুর শিক্ষাজীবন। নগরীর আসাম কলোনিতে জাগো ফাউন্ডেশন পরিচালিত বিদ্যালয়টির জন্য স্থায়ী জায়গা বরাদ্দে এবার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। সরকারি খাস জমির পাশাপাশি প্রয়োজন হলে রেলওয়ের জমি বরাদ্দের বিষয়েও সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাগো ফাউন্ডেশন স্কুল পরিদর্শনকালে ভূমিমন্ত্রী বলেন, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম টেকসই করতে স্থায়ী জায়গার বিকল্প নেই। এ জন্য উপযুক্ত সরকারি খাস জমি চিহ্নিত করে নিয়ম অনুযায়ী বরাদ্দের আবেদন করতে সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দেন তিনি।
একই সঙ্গে জাগো ফাউন্ডেশন স্কুলের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য রেলওয়ের জমি বরাদ্দের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তিতে রেলমন্ত্রী ও রেল সচিবের কাছে সরাসরি সুপারিশ পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেন ভূমিমন্ত্রী।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্লে থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৭০০ সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করছে। স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় অবকাঠামোগত নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। স্থায়ী জায়গা পাওয়া গেলে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও নিরাপদ ও উন্নত পরিবেশে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, সুবিধাবঞ্চিত এলাকার শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা জরুরি। সে জন্য নতুন রাস্তার পাশে কিংবা রেলওয়ের আশপাশে সুবিধাজনক সরকারি খাস জমি থাকলে তা চিহ্নিত করে বরাদ্দের জন্য আবেদন করার পরামর্শ দেন তিনি।
রাজশাহীতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ইউসেফ পরিচালিত ১১টি বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় পাঁচ হাজার শিশু পড়াশোনা করছে। এসব বিদ্যালয়ের অধিকাংশই সিটি করপোরেশনের জায়গায় পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে কয়েকটি জায়গার চুক্তির মেয়াদও শেষ হওয়ার পথে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে স্থায়ী জায়গার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
তিনি আরও জানান, মেয়র থাকাকালে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য পরিচালিত এসব বিদ্যালয়ের তিনটির জন্য বহুতল ভবন নির্মাণসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছিলেন।
জাগো ফাউন্ডেশন স্কুল পরিদর্শন করে এর শিক্ষা পরিবেশে সন্তোষ প্রকাশ করেন ভূমিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া শিশুদের শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া তাদের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার পাশাপাশি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
স্থায়ী ক্যাম্পাস হলে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের আরও শিশুকে শিক্ষার আওতায় আনা সম্ভব হবে।
পরিদর্শনকালে জাগো ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা করভি রাখসান্দ, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুধীজন ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।