জামালপুর-ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

Bus services on Jamalpur-Dhaka route suspended
অনলাইন ডেস্ক ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৩৫ অপরাহ্ন সারা বাংলা
অনলাইন ডেস্ক ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৩৫ অপরাহ্ন
জামালপুর-ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা
--সংগৃহীত ছবি

জামালপুরে বাস ভাঙচুর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে জামালপুর-ঢাকা রুটে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে জামালপুর জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি।


বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) ভোর থেকে জামালপুর বাস টার্মিনালে এসে আটকে পড়েছেন শত শত সাধারণ যাত্রী। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে তারা। এদিকে নিজের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে বাস চালাকরা।


জানা গেছে, গত ৩১ আগস্ট রাত ৭টার দিকে জামালপুর সদর উপজেলার লাহেরীকান্দা এলাকায় রাজীব পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে এক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি অটোরিকশার ওপর উল্টে পড়ে চারজন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হন। এই দুর্ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল বুধবার ২ আগস্ট দুপুরে সদর উপজেলার নান্দিনা এলাকায় কিছু স্থানীয় লোকজন রাজীব বাস বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধন চলাকালে স্থানীয় কিছু লোকজন ঢাকা থেকে জামালপুরের উদ্দেশ্যে আসা রাজীব পরিবহনের দুইটি বাস ভাঙচুর করে ।


তবে বাস চালকরা দাবি করেন সেখানকার লোকজন বাসগুলোতে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে এবং বাসের স্টাফদের মারধর করে সঙ্গে থাকা টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিয়েছে। তারা বাস চালাতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাই তারা বাস ভাঙচুর ও স্টাফদের ওপর হামলার প্রতিবাদে, হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে ও নিরাপত্তার দাবিতে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে জামালপুর থেকে ঢাকা রুটে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়। এরপর বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই জামালপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে কোনো দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়নি। 


হঠাৎ কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়া বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। সকালে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে টার্মিনালে এসে অনেককে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। অনেকে আবার বাধ্য হয়ে বিকল্প উপায়ে ছোট ছোট যানবাহনে যাতায়াতের চেষ্টা করছেন, যার সুযোগ নিয়ে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের। অভিযোগ রয়েছে রাজীব পরিবহনের বাসগুলো বেপরোয়া গতির কারণে জামালপুর ময়মনসিংহ রুটে চলাচলে ভাই সময় দুর্ঘটনা ঘটে।


আলিফ নামের এক বেসরকারি চাকরিজীবি বলেন, আজ দুপুর ৩টা থেকে আমার হেড অফিসে জেলার লোকজনদের নিয়ে মিটিং। আমি সকালে বাস টার্মিনালে এসেছি বাসে করে ঢাকা যাব বলে। এখন বাসে উঠলে দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে ঢাকা থাকতাম। কিন্তু এসে দেখি বাস বন্ধ, এ সময় ট্রেনও নেই। মাইক্রো ভাড়া চাচ্ছে ৬ হাজার। ৫০০ টাকা দিয়ে ভাড়া যাব বলে বের হয়েছি ৬ হাজার টাকা দিয়ে যাওয়া কি সম্ভব। এখানে আমার মতো অনেকে আছে। চরম ভোগান্তির মধ্যে আছি।


জামালপুর জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ বলেন, লোকজন আমাদের বাড়ি ভাঙছে, চালকদের মারধর করছে। কোন চালক ইচ্ছে করে দুর্ঘটনায় ফেলে না। আমরা নিরাপত্তাহীনতাই আছি। আমাদের নিরাপত্তা না দেওয়া পর্যন্ত গাড়ি বন্ধ থাকবে।


এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব বলেন, এ বিষয়ে আমরা বাস চালকদের সঙ্গে কথা বলব। আর দ্রুত সময়ের মধ্যেই ভোগান্তি নিজের করতে চেষ্টা করব। 


তবে এ বিষয়ে জামালপুর বাস ও মিলিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শুভ সাথে যোগাযোগ করতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।