ব্যালন ডি’অর

১০০ বার সুযোগ পেলে প্রতিবারই মেসিকে ভোট দেবো: জিদান

If I had the chance 100 times, I would vote for Messi every time
অনলাইন ডেস্ক ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:৩২ অপরাহ্ন খেলা
অনলাইন ডেস্ক ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:৩২ অপরাহ্ন
১০০ বার সুযোগ পেলে প্রতিবারই মেসিকে ভোট দেবো: জিদান
--সংগৃহীত ছবি

বয়স ৩৯ পেরিয়েছে। ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়েও লিওনেল মেসি যে এখনো বিশ্ব ফুটবলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে, সেটাই যেন ফুটবলীয় বিস্ময়। বয়স যেখানে অনেক কিংবদন্তির জন্য থামার সংকেত, সেখানে মেসি এখনো মাঠে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের ছাপ রেখে চলেছেন। আর আর্জেন্টাইন মহাতারকার এমন ধারাবাহিকতায় মুগ্ধ আরেক ফুটবল বিস্ময়, ফ্রান্সের বর্তমান কোচ জিনেদিন জিদান।

ফরাসী কিংবদন্তি ও সাবেক কোচের কাছে সর্বকালের সেরা ফুটবলার (গোট- গ্রেটেস্ট অব অল টাইম বা সর্বকালের সেরা) নিয়ে কোনো সংশয় নেই। তার চোখে মেসির ওপরে কাউকে রাখা কঠিন। এমনকি ব্যালন ডি’অরে ১০০ বার ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে একবার নয়, ১০০ বারই মেসিকে বেছে নেবেন বলে জানালেন জিদান।

মেসিকে নিয়ে নিজের অবস্থান জানাতে গিয়ে জিদান বলেন, ‘আমি মেসিকে ১০০ বার ভোট দেব।’

ব্যালন ডি’অরের এবারের দৌড়ে মেসির সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জিদান বরং অবাক হয়েছেন অন্য জায়গায়। ৩৯ বছর বয়সেও মেসি কিভাবে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, সেটিই তার কাছে সবচেয়ে অবিশ্বাস্য বিষয়।

জিদানের ভাষায়, ‘মানুষ সত্যিই বুঝতে পারে না, ৩৯ বছর বয়সেও বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের মধ্যে থাকা কতটা অবিশ্বাস্য।’

ফুটবলে বয়সের সঙ্গে সাধারণত গতি, ধার ও শারীরিক সক্ষমতা কমে আসে। কিন্তু মেসির ক্ষেত্রে সেই নিয়ম যেন পুরোপুরি খাটছে না। বয়স বাড়লেও তার পাসিং, গোল করার ক্ষমতা, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ এবং সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করার দক্ষতা এখনো তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে রাখছে। জিদানের চোখেও এটাই মেসির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য।

শুধু মেসির বয়সই নয়, চলতি বছর তার পারফরম্যান্সও জিদানের কাছে ব্যালন ডি’অরের আলোচনায় রাখার মতো। ফরাসি কিংবদন্তির মতে, ব্যক্তিগত পুরস্কারের দৌড়ে মেসিকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। বরং তার পারফরম্যান্স এমন পর্যায়ে যে, মেসি পুরস্কারটি জিতলেও সেটি কোনোভাবেই বিস্ময়ের হবে না।

‘মেসি যদি পুরস্কারটি (ব্যালন ডি’অর) জেতে, আমি অবাক হব না,’ বলেছেন জিদান।

এখানেই থামেননি ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী এই কিংবদন্তি। মেসির প্রভাবের সঙ্গে অন্য মনোনীতদের তুলনা করেও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি- এ বছর সত্যিই কি মেসির চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছেন অন্য কেউ?

ব্যালন ডি’অর নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে। কে সেরা, কার মৌসুম বেশি উজ্জ্বল- এ নিয়ে ফুটবলবিশ্বে মতপার্থক্যও স্বাভাবিক। কিন্তু সর্বকালের সেরা ফুটবলার নিয়ে জিদানের অবস্থান বেশ পরিষ্কার। গোট বিতর্কে মেসির নাম নিয়ে এখনো যারা সংশয়ে আছেন, তাদের উদ্দেশে জিদানের বক্তব্য আরও কঠোর। তার মতে, মেসি সর্বকালের সেরা কি না- এ নিয়ে সংশয় থাকা মানেই ফুটবলকে যথাযথভাবে না বোঝা।

জিদান বলেন, ‘এখনো যদি কারও গোট বিতর্ক নিয়ে সন্দেহ থাকে, সত্যি বলতে, সেই ব্যক্তি ফুটবল সমাজেরই অংশ নন।’

জিদানের এমন মন্তব্য মেসিকে ঘিরে চলমান গোট বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কারণ জিদান নিজেই ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জেতানো এই কিংবদন্তির ক্যারিয়ারে আছে অসংখ্য ব্যক্তিগত ও দলীয় অর্জন। তার মতো একজনের কাছ থেকে মেসির পক্ষে এমন সরাসরি সমর্থন নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।

মেসির বয়স এখন ৩৯। কিন্তু জিদানের বক্তব্যের মূল বার্তাটি বয়সের চেয়েও বড়- সেরা হওয়ার জন্য শুধু বয়স নয়, মাঠে নিজের প্রভাবই শেষ কথা। আর সেই জায়গায় মেসি এখনো অন্যদের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারছেন বলেই জিদানের চোখে তিনি ব্যতিক্রমী।

একদিকে বয়সের ভার, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের তারকাদের উত্থান- সবকিছুকে পাশ কাটিয়ে মেসি যদি আবারও ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ পুরস্কারের আলোচনায় থাকেন, সেটিই তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অসাধারণত্বের প্রমাণ। জিদানের মতো কিংবদন্তির দৃঢ় সমর্থন সেই দাবিকেই আরও শক্তিশালী করেছে।