ন্যাশনাল ইনোভেশন চ্যালেঞ্জে সিড ফান্ড পেল রুয়েটের ১৩ স্টার্টআপ
ইউনিভার্সিটি ইনোভেশন হাব প্রোগ্রাম (ইউআইএইচপি) এর আওতাধীন ন্যাশনাল ইনোভেশন চ্যালেঞ্জের চূড়ান্ত পর্বে সাফল্য অর্জন করে সিড ফান্ড পেয়েছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ১৩টি স্টার্টআপ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নির্বাচিত ১২০টি দলের মধ্যে জায়গা করে নেয় রুয়েটের এসব দল। গত ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ধারাবাহিকভাবে চূড়ান্ত পর্যায়ের বিজয়ী দলগুলোর ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
রুয়েটের বিজয়ী দলগুলোর মধ্যে রয়েছে টিম এক্সার্শন, বাইটবটস, মেডিরাইড, সোলার স্নো, অ্যাটোড্রিমার্স, অ্যাকুইভিরা, ইকো পেডাল, পেডাল ভাই সহ আরও ৫টি দল। এসব দলের প্রত্যেকের জন্য ইতোমধ্যে সিড ফান্ডের পরিমাণও ঘোষণা করা হয়েছে।
মোট ছয়টি ইনোভেশন কোহর্টে পৃথকভাবে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ, মেন্টরশিপ ও বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে দলগুলো জাতীয় পর্যায়ে পারস্পরিক প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হয়। কোহর্টভিত্তিক কার্যক্রমে উদ্ভাবনী ধারণা উন্নয়ন, প্রোটোটাইপ তৈরি, ন্যূনতম কার্যকর পণ্য (এমভিপি) উন্নয়ন এবং বাণিজ্যিকীকরণের প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনের সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইউআইএইচপি একটি জাতীয় উদ্যোগ। বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের (বিএইচটিপিএ) আওতায় ডিজিটাল উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবন ইকোসিস্টেম উন্নয়ন (ডিইআইইডি) প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত এ কর্মসূচির বাস্তবায়নে মালয়েশিয়া ভিত্তিক ইউপিএমসিএসের নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়াম যুক্ত রয়েছে। দেশের ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ কর্মসূচির আওতায় ইনোভেশন কোহর্ট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যা ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রথম ইনোভেশন কোহর্টের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করে।
ইউআইএইচপির আওতায় বর্তমান শিক্ষার্থী ও তাদের মেন্টরদের সহায়তায় উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তবসম্মত স্টার্টআপে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। মেধাস্বত্ব, আর্থিক মডেলিং ও লিন স্টার্টআপ কৌশল সহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি শিল্পখাতের বিশেষজ্ঞ, অর্থায়নকারী ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও ছিল এসব প্রশিক্ষণে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৯ জুন রুয়েট অডিটোরিয়ামে ইউআইএইচপি ন্যাশনাল ইনোভেশন চ্যালেঞ্জের প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী আয়োজনে রুয়েট ও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কোহর্টে প্রি-সিড ফান্ড পাওয়া দলগুলো তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প ও পরিমার্জিত ধারণা উপস্থাপন করে। এছাড়াও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ পর্যায়ের আরও দুটি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজনে উদ্ভাবন, গবেষণা, প্রযুক্তিনির্ভর সমস্যা সমাধান, স্টার্টআপ সংস্কৃতি ও তরুণ উদ্যোক্তা উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তবসম্মত, কার্যকর ও টেকসই সমাধানে রূপ দেওয়ার পাশাপাশি শিল্প ও একাডেমিয়ার মধ্যে সংযোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ইউআইএইচপির কার্যক্রমের পরিসরও এরই মধ্যে বিস্তৃত হয়েছে। কর্মসূচিটির আওতায় এখন পর্যন্ত ৭১৪টির বেশি দল ও স্টার্টআপ উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও উদ্ভাবন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। প্রি-সিড ফান্ড ও বিভিন্ন অনুদান হিসেবে ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার বেশি অর্থায়ন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইউআইএইচপি থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করা বিভিন্ন দল ও স্টার্টআপ পরবর্তী সময়ে বহিরাগত অর্থায়নকারীদের কাছ থেকে ১ কোটি টাকার বেশি অর্থায়ন পেয়েছে।
দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইউআইএইচপির কার্যক্রমের বিস্তৃতি রয়েছে। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রুয়েট, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও উদ্ভাবনী দল এ নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।
ছয়টি কোহর্টে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও মেন্টরশিপের মধ্য দিয়ে দলগুলো তাদের ব্যবসায়িক ধারণা, প্রযুক্তিগত সমাধান ও স্টার্টআপ পরিকল্পনা পরিমার্জনের সুযোগ পায়। পরবর্তী সময়ে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে ১২০টি অংশগ্রহণকারী দলের মধ্যে রুয়েটের ১৩টি স্টার্টআপের চূড়ান্ত সাফল্য বিশ্ববিদ্যালয়টির উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেছে।