রাজশাহী রেলস্টেশনে রাতভর রাবি শিক্ষার্থীদের নরকীয় তাণ্ডব, লুটপাট - ভাঙচুর

RU students' night-long riot at Rajshahi railway station
আবুল কালাম আজাদ রাজশাহী:- ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৩০ পূর্বাহ্ন নির্বাচিত সংবাদ
আবুল কালাম আজাদ রাজশাহী:- ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৩০ পূর্বাহ্ন
রাজশাহী রেলস্টেশনে রাতভর রাবি শিক্ষার্থীদের নরকীয় তাণ্ডব, লুটপাট - ভাঙচুর
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীর ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীর ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন একপর্যায়ে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে এসে রাতভর নরকীয় তান্ডব চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে । 

এ সময় শিক্ষার্থীরা  দেশীয় অস্ত্র হাতে স্টেশনের কক্ষ ভাঙচুর ও যাত্রীদের মালামাল লুট,বুকিং অফিস ও দুটি ব্যাংক বুথ লুটের চেষ্টা,থানা পার্সেল অফিস ও নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যালয় ভাঙচুরের   অভিযোগ উঠেছে। 

এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, দায়িদের শাস্তি   ও  ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।


রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে রাবির জিএস সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় তিনি ‘বিন্দুপরিমাণ অ্যাপলজি’ করবেন না। তিনি দাবি করেন, ‘কথায় কথায় শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তোলার পরিমাণ ভয়ানক, সেটা আজ বুঝেছে হয়তো।’ একই পোস্টে তিনি দাবি করেন, আন্দোলনের ঘটনায় কোনো সাধারণ মানুষের ক্ষতি হয়নি।

সালাউদ্দিন আম্মার আরও বলেন, ক্ষতিপূরণ নিতে হলে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের কাছ থেকে নেওয়া উচিত এবং মামলা করতে হলে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে করা উচিত। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ‘এক ফোঁটা রক্তের হিসাবও নেওয়া হবে’ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে সন্ধায় রাবির শিক্ষার্থী আইয়ুব আলীর ওপর হামলার অভিযোগে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে রেল কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। 

তাঁর দাবি, আইয়ুব আলী ওই ট্রেনের যাত্রী ছিলেন না। ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমস্যা হলে সেখানে গিয়ে প্রতিবাদ করার কারণে তিনি হামলার শিকার হন।


হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে রেল কর্তৃপক্ষকে সময়সীমা বেঁধে দেন শিক্ষার্থীরা। পরে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে রেলপথ অবরোধ করে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ উপস্থিত না হলে ‘মার্চ টু রাজশাহী রেল স্টেশন’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

এরপর শিক্ষার্থীরা রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের দিকে যাত্রা করেন। বিক্ষোভকারীরা স্টেশনে পৌঁছালে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় রেলওয়ের বিভিন্ন স্থাপনা ও সরঞ্জাম ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।

 একই সঙ্গে স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের মালামাল লুটের অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, ন্যায়বিচারের দাবিতে শুরু হওয়া একটি আন্দোলন কীভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর্যায়ে গেল। তাঁদের দাবি, শিক্ষার্থীর ওপর হামলার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি রেলস্টেশনে ভাঙচুর বা লুটপাটের অভিযোগও তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।


একই সঙ্গে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

 দীর্ঘ সময় ধরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি চলার পরও রেলস্টেশন ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন অনেকে। তবে পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক আহম্মদ হোসেন মাসুমের বিরুদ্ধে ওঠা প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।

এদিকে, হামলার ঘটনায় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর চার সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগে এবং কোন প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুরো ঘটনায় একদিকে রাবি শিক্ষার্থীর ওপর হামলার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রয়োজন;। 

অন্যদিকে আন্দোলনের নামে রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট, ভাঙচুর বা সাধারণ যাত্রীদের ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ থাকলে সেগুলোরও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া জরুরি। কোনো পক্ষের অভিযোগ বা বক্তব্যকে একতরফাভাবে চূড়ান্ত ধরে না নিয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরই গুরুত্ব দিচ্ছেন তাঁরা।