নবীনদের অভ্যর্থনা ঘিরে পদ্মা সরকারি কলেজে ছাত্রদল-শিবিরের সংঘর্ষ, আহত ৮
রাজশাহীর পদ্মা সরকারি কলেজে নবীন শিক্ষার্থীদের অভ্যর্থনা ও ভর্তি সহায়তা কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া- পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। এতে রোভার স্কাউটের সদস্যসহ অন্তত আটজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদের অভ্যর্থনা এবং ভর্তি-সংক্রান্ত সহায়তার জন্য কলেজ ক্যাম্পাসে কার্যক্রম চালাচ্ছিল ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী ও বহিরাগত কয়েকজন সেখানে গিয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
তাদের অভিযোগ, আকস্মিক হামলায় রোভার স্কাউটের সদস্যসহ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। একই সময়ে নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে টানানো ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই কলেজ ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে মহানগর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
ক্যাম্পাসে উত্তেজনা, পুলিশের উপস্থিতি:-
সংঘর্ষের খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কলেজ ক্যাম্পাসে যান। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নেন।
তবে সংঘর্ষের প্রকৃত সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ছাত্রশিবির ও বহিরাগতদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করা হলেও এ বিষয়ে ছাত্রশিবিরের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা:-
চন্দ্রিমা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, পদ্মা সরকারি কলেজে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কলেজ ক্যাম্পাসে যাতে আর কোনো ধরনের সংঘাত বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নবীন শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও অভ্যর্থনা কার্যক্রমের মতো একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে দ্রুত ঘটনার কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।