রুয়েট ক্যাম্পাসে সাপ-কুকুরের আতঙ্ক, নিরাপত্তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ

Snake and dog scare on RUET campus
আবুল কালাম আজাদ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:৫১ অপরাহ্ন সারা বাংলা
আবুল কালাম আজাদ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:৫১ অপরাহ্ন
রুয়েট ক্যাম্পাসে সাপ-কুকুরের আতঙ্ক, নিরাপত্তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) আবাসিক হল ও ক্যাম্পাস এলাকায় সাপের উপস্থিতির পাশাপাশি বেওয়ারিশ ও আক্রমণাত্মক কুকুরের উৎপাত নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) আবাসিক হল ও ক্যাম্পাস এলাকায় সাপের উপস্থিতির পাশাপাশি বেওয়ারিশ ও আক্রমণাত্মক কুকুরের উৎপাত নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভোররাত ও সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসের কয়েকটি সড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি আরও বাড়ছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।


গত ১৭ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ট্রেনে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ফিমেল হল থেকে বের হয়ে কুকুরের আক্রমণের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন এক আবাসিক ছাত্রী। তাঁর ভাষ্য, ফিমেল হল-১-এর পেছনের সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় সাদা-কমলা রঙের একটি কুকুর তাঁর দিকে তেড়ে আসে। একপর্যায়ে কুকুরটি তাঁর শরীরের কাছে উঠে পড়ে এবং পায়ে কামড় দেওয়ার চেষ্টা করে।


আত্মরক্ষার্থে পিঠে থাকা ব্যাগ দিয়ে কুকুরটিকে ঠেকানোর চেষ্টা করেন ওই ছাত্রী। কিন্তু কুকুরটি কিছুক্ষণ তাঁর পিছু নেয় বলে জানান তিনি। এ সময় সড়কের বৈদ্যুতিক বাতিও বন্ধ ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। ফলে নির্জন ও অন্ধকার সড়কে পরিস্থিতি আরও আতঙ্কজনক হয়ে ওঠে।

ওই ছাত্রীর দাবি, পরে আরও তিনটি কুকুর সেখানে এসে আক্রমণকারী কুকুরটিকে তাড়া করলে তিনি ওই স্থান থেকে নিরাপদে সরে যেতে সক্ষম হন। পরে দীর্ঘ পথ হেঁটে ক্যাম্পাসের এক নিরাপত্তাকর্মীর কাছে ঘটনাটি জানান তিনি। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।


সাপের উপস্থিতি নিয়েও আতঙ্ক:-

কুকুরের উৎপাতের পাশাপাশি রুয়েটের আবাসিক হল ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ঝোপঝাড়ে সাপের উপস্থিতি নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে। বিশেষ করে টিনশেড আবাসিক হলের টয়লেট ও আশপাশের এলাকায় সাপ দেখা যাওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে আগাছা ও ঝোপঝাড় নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় সাপসহ অন্যান্য বিষাক্ত প্রাণীর বিচরণ বাড়ছে। আবাসিক হল ও চলাচলের সড়কের আশপাশের এসব স্থান দ্রুত পরিষ্কার করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


পর্যাপ্ত আলো না থাকায় বাড়ছে ঝুঁকি:-

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসের কিছু সড়কে বিশেষ করে ভোররাত ও রাতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। নারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন তাঁরা।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, শুধু নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করলেই হবে না; ক্যাম্পাসের অন্ধকার সড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, ঝোপঝাড় পরিষ্কার, বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণ এবং সাপের উপদ্রব মোকাবিলায় সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।


ডিএসডব্লিউর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন:-

শিক্ষার্থীদের একটি অংশের অভিযোগ, এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে বিভিন্ন নির্দেশনা বা নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ দূর হচ্ছে না।


শিক্ষার্থীদের দাবি:-

শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় একটি আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়ায় ক্যাম্পাসের ভেতরে তাঁদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সাপ ও কুকুরের উপদ্রবকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


উপাচার্য যা বললেন:-

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক এস এম আবদুর রাজ্জাক বলেন, রুয়েট ক্যাম্পাসে কুকুর বা সাপের উপদ্রবের বিষয়ে এর আগে শিক্ষার্থী বা অন্য কেউ তাঁকে অভিযোগ করেননি। বিষয়টি স্পর্শকাতর উল্লেখ করে তিনি দ্রুত সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি নিজে বিষয়টি দেখব। বেওয়ারিশ কুকুর যাতে ক্যাম্পাসে ঢুকতে না পারে, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সহযোগিতা নিয়ে কুকুরের উপদ্রব থেকে শিক্ষার্থী, কর্মচারী ও শিক্ষকদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।’

সাপের উপদ্রব প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, রুয়েট আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। তবে বর্ষাকালে সাপ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য জলাশয় থেকে উঁচু স্থানে উঠে আসে। এ সময় সাপ আশ্রয়ের জন্য ক্যাম্পাসের উঁচু জায়গায়ও আসতে পারে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীসহ সবাইকে সতর্কভাবে চলাফেরার জন্য বলা হয়েছে।

রুয়েট ক্যাম্পাসের ঝোপঝাড় ও সড়কবাতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্ষাকালে ঝোপঝাড় বেশি গজায়। তবে তাঁর জানা মতে, শিক্ষার্থীদের হল ও কোয়ার্টারের আশপাশে তেমন ঝোপঝাড় বা জঙ্গল নেই। তারপরও যেটুকু রয়েছে, তা নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়।

উপাচার্য আরও বলেন, বর্তমানে রুয়েটে জনবল সংকটের কারণে যতটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা দরকার, ততটা করা সম্ভব হচ্ছে না। তবুও ক্যাম্পাস যতটা সম্ভব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ সড়কে বাতি না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসের সড়কে বাতি থাকবে না, এটা হতে পারে না।’ এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারও গাফিলতি থাকলে রুয়েটের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।


সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য:-

সংশ্লিষ্টদের মতে, বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে প্রাণীকল্যাণের বিষয়টিও বিবেচনায় রেখে মানবিক ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাপের উপস্থিতি কমাতে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখা এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ সংস্থার সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।


শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা:-

কোনো দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটার আগেই রুয়েট প্রশাসন বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখবে—এমনটাই প্রত্যাশা শিক্ষার্থীদের। তাঁদের দাবি, ক্যাম্পাসের আবাসিক এলাকা, সড়ক এবং শিক্ষার্থীদের চলাচলের স্থানগুলো নিরাপদ করতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।